লোকসভা মিটলেও ভোট-আবহ জারি রইল বঙ্গে। আগামী ১০ জুলাই রাজ্যের চার কেন্দ্রে বিধানসভা উপনির্বাচন। কেন্দ্র চারটি হল, নদীয়ার রানাঘাট দক্ষিণ, উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা, কলকাতার মানিকতলা এবং উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ। ১৩ তারিখ এই উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশ।
আরও পড়ুন: মারপিটকাণ্ডে আরও বিপাকে সোহম, এবার হাইকোর্টে গেলেন রেস্তরাঁ মালিক


এই চার কেন্দ্রে কোন দলের তরফে কাকে প্রার্থী করা হবে তা নিয়ে জল্পনা চলছে। তৃণমূল নিজেদের মধ্যে লাগাতার বৈঠক করছে। অন্যদিকে, বিজেপি চায় চমক দিতে। বাম ও কংগ্রেস সম্মিলিতভাবেই লড়বে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, মানিকতলা ও বাগদা বিধানসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী দেবে সিপিআইএম। অন্যদিকে, রায়গঞ্জ ও রানাঘাট দক্ষিণে লড়বে কংগ্রেস। এবারেও ‘একলা চলো’ নীতিতেই আস্থা রাখতে চায় আইএসএফ।

একুশের বিধানসভায় বাংলার যে তিন দলের বৃহত্তর জোট তৈরি হয়েছিল, সেই জোটের বাঁধন ক্রমেই যেন আলগা হচ্ছে। সিপিআইএম, কংগ্রেস ও আইএসএফ। বিধানসভায় হাত ধরাধরি করে লড়ে একটি মাত্র আসন জেতে। তাও নব্যনির্মিত দল আইএসএফ। ভাঙড় থেকে জেতেন নওশাদ সিদ্দিকী। এরপর লোকসভায় সেই জোট সম্ভব হয়নি। বাম ও কংগ্রেস একত্রে লড়লেও পৃথকভাবে লড়ে আইএসএফ।
এবারের লোকসভায় ৪২ আসনের মধ্যে ৩০ আসনে বামেরা প্রার্থী দেয়। বাকি কংগ্রেস। একে অপরের সমর্থন নিয়েই ভোটে লড়ে তাঁরা। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে, মালদহ দক্ষিণ এই আসনটি থেকে কেবল জয় পেয়েছে কংগ্রেস। কিন্তু, বামেরা খাতা খুলতেই পারেনি। শুধু তাই নয়, বামেদের ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৮ জনের জামানত জব্দ হয়েছে।


আত্মসম্মান বিকিয়ে আর জোট নয়, উপনির্বাচনেও ‘বাম-কং’ ভুলে একলা চলো নীতি নিল ISF

তবে, আইএসএফ যে এককভাবে খুব ভালো করেছে তাও নয়। তাঁরা একটিও আসন তো পায়নি, সঙ্গে যে ভাঙড় আসন একুশের বিধানসভায় তাঁরা জেতে সেখানেও লিড নিতে ব্যর্থ হয়েছেন বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। কিন্তু, তাঁর মতে, আইএসএফ খাতায় কলমে ‘ছোট’ দল হওয়ায় তাঁদের ওপর ‘বাড়তি’ চপ সৃষ্টি করছে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। শুধু তাঁদেরকেই ‘আপোষ’ করতে হচ্ছে, কম আসন দেওয়া হচ্ছে তাঁদের। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই জোট কার্যত শেষ। ২০২৬ বিধানসভায় আলাদাই লড়বে আইএসএফ।







