উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মঞ্চে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শিলিগুড়ির সভা থেকে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস-কে নিশানা করে তিনি বলেন, “বামেদের সুযোগ দিয়েছেন, তৃণমূলকেও দিয়েছেন—এ বার একবার মোদীকে সুযোগ দিন।” তাঁর এই আহ্বান নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মোদীর বক্তব্যে উঠে আসে নারী সুরক্ষা, কর্মসংস্থান, আইনের শাসন ও স্বাস্থ্য পরিষেবা—এই চারটি প্রধান ইস্যু। তিনি দাবি করেন, বিজেপি সরকার এলে গরিবদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও মহিলাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি বাংলার সংস্কৃতিকে ‘তুষ্টিকরণ রাজনীতি’ থেকে রক্ষা করার কথাও বলেন তিনি।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মোদী। তাঁর অভিযোগ, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কারণে উত্তরবঙ্গে সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং স্থানীয় মানুষ কাজ হারাচ্ছেন। তিনি বলেন, “এখনই এই সমস্যা থামাতে হবে।”
চা-বাগান ও আদিবাসী উন্নয়ন নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিজেপি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছে, কিন্তু রাজ্য সরকার সেই কাজে বাধা দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, উত্তরবঙ্গকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে।
মহিলাদের জন্য ভাতার প্রতিশ্রুতিও দেন মোদী। তাঁর ঘোষণা, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের মাসে ৩০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্রীড়া ও শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে উত্তরবঙ্গে ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যানসার হাসপাতাল ও অন্যান্য পরিকাঠামো গড়ার কথাও বলেন তিনি।
তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, উন্নয়নে বাধা ও ‘ভয় দেখানোর রাজনীতি’-র অভিযোগ তুলে মোদী বলেন, “৪ মে-র পর সব বদলে যাবে। পশ্চিমবঙ্গ আর ভয় পেতে চায় না, ভরসা চায়।”
সব মিলিয়ে, শিলিগুড়ির সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক ভাষণ স্পষ্ট করে দিল—ভোটের আগে উত্তরবঙ্গ এখন রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।



