ফলতার ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল বাংলায়। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডার রেকর্ড জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরাসরি বার্তা দিলেন, “গণতন্ত্রের জয় হয়েছে, ভয় দেখানোর রাজনীতির পরাজয় হয়েছে।” ফলতার ভোটে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতেই বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী।
রবিবার ফলতার পুনর্নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি লেখেন, ফলতার মানুষ তাঁদের মত স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। গণতন্ত্রের জয় হয়েছে এবং ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি পরাজিত হয়েছে।
বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডাকে অভিনন্দন জানিয়ে মোদি বলেন, এই জয় শুধু একটি কেন্দ্রের ফল নয়, বরং বাংলার মানুষের বিজেপির প্রতি আস্থার প্রতিফলন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের উপর মানুষ ভরসা রাখছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় আরও উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি কর্মীদের পরিশ্রমই এই সাফল্যের মূল কারণ। আগামী দিনেও বাংলার উন্নয়নের জন্য বিজেপি কাজ চালিয়ে যাবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
ফলতার জনগণ তাঁদের মত জানিয়েছেন! গণতন্ত্র জিতেছে এবং ভীতিপ্রদর্শন পরাজিত হয়েছে।
অভূতপূর্ব ব্যবধানে ফলতায় জেতার জন্যে শ্রী দেবাংশু পান্ডাজিকে অভিনন্দন। বিজেপির প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের অটল বিশ্বাসেরই চিহ্ন এটি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ব্যতিক্রমী কাজ মানুষ দেখছেন…
এই বিষয়ে আরও খবর
‘আর জাহাঙ্গির তৈরি হবে না’, ফলতায় দ্বিতীয় হয়ে তৃণমূলকে কড়া বার্তা সিপিআইএম প্রার্থী শম্ভুনাথের
ফলতায় ভেঙে চুরমার ‘ডায়মন্ড মডেল’, তবুও পরাজিত নন অভিষেক! চমকে দিচ্ছে ভোটের অঙ্ক— Narendra Modi (@narendramodi) May 24, 2026
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা জিতেছেন ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বিপুল ব্যবধান শুধু একটি নির্বাচনী ফল নয়, বরং দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় বার্তা বহন করছে।
বিশেষ করে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র ঘিরে যে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, ফলতার ফল তার উপর নতুন করে আলো ফেলেছে। কারণ, দু’বছর আগেও এই কেন্দ্রেই তৃণমূল বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে ছিল।
এবারের ভোটে অবাধ প্রচার ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে বিরোধীদের বক্তব্যে। ফলে বিজেপি এই ফলকে শুধু রাজনৈতিক জয় নয়, “গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন” হিসেবেও তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
ফলতার এই ফল যে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক ও নতুন সমীকরণের জন্ম দিল, তা নিয়ে এখন আর বিশেষ সংশয় নেই।



