‘আর জাহাঙ্গির তৈরি হবে না’, ফলতায় দ্বিতীয় হয়ে তৃণমূলকে কড়া বার্তা সিপিআইএম প্রার্থী শম্ভুনাথের

ফলতায় ৪০ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে সিপিআইএম। “আর জাহাঙ্গির নয়” বলে তৃণমূলকে কড়া বার্তা শম্ভুনাথ কুর্মির।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ফলতার পুনর্নির্বাচনে জিততে পারেনি সিপিআইএম, কিন্তু দ্বিতীয় স্থানে উঠে দল যে নতুন করে জমি ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে নেমেছে, তা স্পষ্ট করে দিলেন প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মি। ৪০ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন, “আগামীতে আর ফলতার বুকে কোনও জাহাঙ্গির তৈরি হবে না।” ভয়মুক্ত ভোটের পরিবেশেই এই ফল এসেছে বলেও দাবি সিপিআইএমের।

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে সংযুক্ত মোর্চা গড়েও শূন্য হাতে ফিরেছিল সিপিআইএম। পাঁচ বছর পর সেই ছবিতে বদলের ইঙ্গিত মিলল ফলতায়। ডোমকল থেকে মুস্তাফিজুর রহমান রানার জয়ের পাশাপাশি ফলতায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে বাম শিবিরে নতুন আত্মবিশ্বাস জোগাল কাস্তে-হাতুড়ি শিবির।

- Advertisement -

সিপিআইএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মি পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৫ ভোট। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা যেখানে ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে জয়ী হয়েছেন, সেখানে তৃণমূল নেমে গিয়েছে চতুর্থ স্থানে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ফল শুধু ভোটের অঙ্ক নয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মাটির পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত।

ফল ঘোষণার পর শম্ভুনাথ বলেন, “ফলতার মানুষ আজ আমাদের উপর বড় দায়িত্ব দিয়েছেন। সেই দায়িত্ব মাথা পেতে নিলাম। লাল ঝাণ্ডার তলায় প্রান্তিক মানুষের দাবি আদায়ে আন্দোলন চলবে।”

‘আর জাহাঙ্গির তৈরি হবে না’, ফলতায় দ্বিতীয় হয়ে তৃণমূলকে কড়া বার্তা সিপিআইএম প্রার্থী শম্ভুনাথের
‘আর জাহাঙ্গির তৈরি হবে না’, ফলতায় দ্বিতীয় হয়ে তৃণমূলকে কড়া বার্তা সিপিআইএম প্রার্থী শম্ভুনাথের

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এতদিন সাধারণ মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারতেন না। তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি “দুষ্কৃতীরাজ” চালানোর অভিযোগ তুলে তাঁর দাবি, পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়েই এতদিন ভোট জিতেছে শাসকদল। এবারের ভোটে সেই পরিবেশ না থাকাতেই মানুষের আসল মত প্রকাশ পেয়েছে বলে দাবি তাঁর।

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও ফলতায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল সিপিআইএম। তখন দলের প্রার্থী বিধান পাড়ুই ৭০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে এলাকায় তৃণমূলের সংগঠন শক্তিশালী হলেও, এবারের ভোটে আবারও দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে উঠে এল বামেরা।

- Advertisement -

ফলতার এই ফল নিয়ে উচ্ছ্বসিত সিপিআইএম রাজ্য নেতৃত্বও। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, বিজেপি বিরোধী মানুষজন এখনও বামেদের উপর আস্থা রাখছেন বলেই এই ফল এসেছে। আরও বেশি সময় প্রচারের সুযোগ পেলে ফল আরও ভাল হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সেলিমের দাবি, এই ফলাফলকে ভিত্তি করেই আগামী দিনে বিকল্প রাজনীতির পরিসর আরও বড় করতে চাইছে বামফ্রন্ট। মানুষের কাছে আরও বেশি পৌঁছনোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

ফলতার ভোটে বিজেপির বড় জয় যতটা রাজনৈতিক বার্তা দিল, ততটাই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠল সিপিআইএম দ্বিতীয় স্থানে ফেরা। কারণ, বহুদিন পর বামেরা বুঝিয়ে দিল— বাংলার রাজনীতিতে তারা এখনও পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়নি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর