রাশিয়ার পর এবার ইউক্রেন সফরের সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। রাশিয়া এবং ইউক্রেনে র মধ্যে যুদ্ধের পর এটাই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম কিয়েভ সফর। যদিও যুদ্ধ শুরুর পরে ইতিমধ্যেই রাশিয়া সফর সেরেছেন মোদি। কূটনৈতিকবিদদের মতে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের জেরে ভারতের জন্য অভূতপূর্ব কূটনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মোদির ইউক্রেন সফর দুই ‘বন্ধু’ দেশের সঙ্গে সখ্য বজায় রাখার পাশাপাশি রুশ-ইউক্রেন রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধ হওয়ার আশা দেখছেন কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

সূত্রের খবর, আগামী মাসেই ইউক্রেন যাচ্ছেন মোদি। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইতি টানার প্রক্রিয়া নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা হতে পারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। পাশাপাশি, দ্রুত যুদ্ধবিরতির জন্য কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে দূতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন মোদি। গত জুন মাসে জি৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ইটালি গিয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে পার্শ্ববৈঠক করেছিলেন তিনি। তার আগে জাপানেও দু’জনের একান্তে আলোচনা হয়েছিল। একাধিক বার ফোনে দু’জনের কথা হয়েছে।



বিশ্লেষকদের মতে, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং জেলেনস্কির মধ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সেতুর কাজ করতে পারেন মোদি। যদিও ভারত ও ইউক্রেনের মধ্যে সম্পর্ক মজবুত করা প্রসঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর কয়েকদিন আগেই জানিয়েছিলেন যে ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেইসঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল ভারতের জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং ইউক্রেনের আন্দ্রি বোরিসোভিচ ইয়ারমাকের।
রাশিয়ার পর এবার ইউক্রেন সফরে মোদি, শান্তি ফেরাতে দূতের ভূমিকায় প্রধানমন্ত্রী?

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে এই প্রথম ইউক্রেন সফরে যাচ্ছেন মোদি। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই দুদিনের মস্কো সফরে গিয়ে পুতিনকে আলিঙ্গন করেন মোদি। সেই সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনে হামলা এবং শিশুহত্যার নিন্দাও করেছেন। তারপরেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই রাশিয়া সফর মোটেও ভালভাবে নেয়নি কিয়েভ। উষ্মা প্রকাশ করেছিল আমেরিকাও। এই সফর সম্পর্কে ক্ষুব্ধ জেলেনস্কি বলেছিলেন, “বৃহত্তম গণতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী এক জন যুদ্ধাপরাধীকে আলিঙ্গন করছেন। শান্তিপ্রক্রিয়ায় পক্ষে এটা বিরাট ধাক্কা।’’







