গবাদি পশু হত্যা নিয়ে রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকাকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানালেন কলকাতার নাখোদা মসজিদের ইমাম শফিক কাসমি। শুধু আইনকে স্বাগত জানানোই নয়, মুসলিম সমাজের উদ্দেশেও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন তিনি। ইমামের আবেদন, গো-হত্যা এবং গোমাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন মুসলিমরা। পাশাপাশি গরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দিয়ে সংরক্ষণের দাবিও তুলেছেন তিনি।
সম্প্রতি রাজ্য সরকার ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ আইন মেনে গবাদি পশু জবাই ও প্রকাশ্যে মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম কার্যকর করেছে। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে যখন রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে, তখনই নাখোদা মসজিদের ইমামের বক্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


ইমাম শফিক কাসমি বলেন, “পশুবলি ও গবাদি পশু হত্যা নিয়ে আইন নতুন নয়। ১৯৫০ সালেই এই আইন তৈরি হয়েছিল। সেই আইন মেনেই চলা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “গো-হত্যা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। মুসলিম সমাজের কাছেও আমার আবেদন, গোমাংস খাওয়া বন্ধ করুন।” তাঁর মতে, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং ধর্মীয় সহাবস্থান রক্ষা করতেই এই বিষয়ে সংযম দেখানো জরুরি।
শুধু তাই নয়, সরকারের কাছেও বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ইমামের দাবি, “গরুকে জাতীয় পশুর স্বীকৃতি দিয়ে সংরক্ষণ করা হোক।” তাঁর মতে, ভারতীয় সংস্কৃতি ও কৃষিভিত্তিক সমাজে গরুর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।


ইমামের এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশ তাঁর বক্তব্যকে সম্প্রীতির বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার অন্য অংশের মতে, বিষয়টি ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে জড়িত হওয়ায় বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
উল্লেখ্য, কোরবানির ইদের আগে গবাদি পশু জবাই নিয়ে রাজ্যের নতুন নির্দেশিকা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশ এই আইনকে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় আচারে হস্তক্ষেপ বলে দাবি করলেও, নাখোদা মসজিদের ইমামের বক্তব্য সেই বিতর্কে নতুন দিক খুলে দিল।







