অভাবের সংসার টানতে ভিনরাজ্যে পাড়ি—আর সেখানেই নিভে গেল তরতাজা প্রাণ। শনিবার সকালে এক ফোনকলে মুর্শিদাবাদের একটি পরিবারের জীবনে নেমে এল চরম বিপর্যয়। কাজের সূত্রে মুম্বইয়ে থাকা যুবককে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে—এই খবর শুনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। পরিযায়ী শ্রমিকের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠল।
নিহত যুবকের নাম রিন্টু শেখ। তাঁর বাড়ি মুর্শিদাবাদের রানিতলা থানার আমডহরা এলাকায়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় সাত মাস আগে কাজের সন্ধানে তিনি মুম্বই যান। সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। শনিবার সকালে হঠাৎ করেই মুম্বই থেকে আসে দুঃসংবাদ—রিন্টু আর নেই।
পরিবারের দাবি, কাজ করার সময় স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে রিন্টুর বিবাদ হয়। সেই সময় অভিযুক্ত যুবক লোহার রড দিয়ে রিন্টুর মাথায় সজোরে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ছেলের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন রিন্টুর মা। কাঁদতে কাঁদতেই তিনি বলেন, “আমার ছেলে খেতে বসেছিল। পিছন থেকে মেরেছে। সকালে ফোন করে আমাদের জানিয়েছে। শুনেছি যে মেরেছে, তাকে পুলিশ ধরেছে। আমি টাকা-পয়সা কিছু চাই না। যে আমার ছেলেকে মেরেছে, তার ফাঁসি চাই।”
ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। কংগ্রেস এই ঘটনাকে সামনে রেখে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস-কে নিশানা করেছে। স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, “রাজ্যে কলকারখানা নেই, কর্মসংস্থান নেই। তাই মানুষ ভিনরাজ্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। সেখানে তাঁদের কোনও নিরাপত্তা নেই।”
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে রিন্টু শেখের বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, মৃতদেহ দ্রুত রাজ্যে ফিরিয়ে আনার জন্য সব রকম সহযোগিতা করা হবে। তবে শোকস্তব্ধ পরিবার এখন একটাই প্রশ্ন তুলছে—পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কবে?



