মুম্বই মেয়র নির্বাচন নিয়ে টানাপড়েনের মাঝেই বিজেপিকে স্বস্তি, ‘জনাদেশের প্রতি সম্মান জানাবে শিবসেনা’

বৃহন্মুম্বই পুরসভার মেয়র নির্বাচন ঘিরে জল্পনার মাঝেই বিজেপিকে স্বস্তি দিল শিন্দে শিবসেনা। ‘মহাজুটির পক্ষে জনাদেশের প্রতি সম্মান জানানো হবে’, স্পষ্ট বার্তা শিবিরের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বৃহন্মুম্বই পুরসভার মেয়র নির্বাচন ঘিরে জল্পনা যখন চরমে, ঠিক সেই সময় বিজেপিকে বড়সড় স্বস্তির বার্তা দিল একনাথ শিন্দের শিবসেনা। উপমুখ্যমন্ত্রী শিন্দের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল, মুম্বইবাসী বিজেপি-নেতৃত্বাধীন মহাজুটিকে যে জনাদেশ দিয়েছেন, তার প্রতি পূর্ণ সম্মান জানানো হবে। এই ঘোষণার ফলে মেয়র নির্বাচন নিয়ে জোটভাঙনের আশঙ্কা আপাতত কিছুটা হলেও চাপা পড়ল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

দেশের জনসংখ্যা ও বাজেট—দুই বিচারে বৃহত্তম পুরসভা বৃহন্মুম্বই পুরসভার নির্বাচন শেষ হলেও মেয়র কে হবেন, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। ২২৭টি ওয়ার্ডের পুরসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৪টি আসন। নির্বাচনে বিজেপি জিতেছে ৮৯টি আসনে, শিন্দে শিবসেনা পেয়েছে ২৯টি—ফলে দুই দলের মোট আসনসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১১৮। অর্থাৎ ম্যাজিক ফিগারের থেকে মাত্র চারটি বেশি। এই টানটান অঙ্কই মেয়র নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

ভোটপর্বের পরেই শিন্দে শিবিরের জয়ী প্রার্থীদের ‘হোটেলবন্দি’ করার খবর সামনে আসে। তার পর থেকেই শিবসেনার অন্দরে ভাঙনের সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয় জোর আলোচনা। বিশেষ করে শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) শিবির মনে করছে, শিন্দে গোষ্ঠীতে ভাঙন ধরাতে পারলে মেয়র দখলের রাস্তা খুলে যেতে পারে। কারণ উদ্ধব শিবিরের ঝুলিতে রয়েছে ৬৫টি আসন। তার সঙ্গে রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার ৬, কংগ্রেসের ২৪ এবং অন্যান্য ছোট দলের সমর্থন মিললে ক্ষমতার পালাবদল সম্ভব বলেই পাটিগণিত দেখাচ্ছে।

এই আবহেই শনিবার উদ্ধব ঠাকরে প্রকাশ্যে বলেন, মুম্বইয়ের মেয়র তাঁর দলের হবেন—এটাই তাঁর স্বপ্ন। ‘ঈশ্বরের ইচ্ছা থাকলে সেই স্বপ্ন পূরণ হবে’—এই মন্তব্যেই স্পষ্ট, মেয়র পদ নিয়ে লড়াই ছাড়তে নারাজ ইউবিটি শিবসেনা।

অন্য দিকে, শিবসেনা (ইউবিটি)-র মুখপাত্র সঞ্জয় রাউথ সোমবার কটাক্ষ করে বলেন, “বিজেপিও এ বার তাদের সদ্য জয়ী কর্পোরেটরদের নিরাপদ জায়গায় সরাবে।” তাঁর এই মন্তব্যে জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়।

তবে কর্পোরেটরদের ‘হোটেলবন্দি’ করার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে শিন্দে শিবির। তাদের দাবি, এটি কোনও বন্দিত্ব নয়, বরং একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা। শিবসেনার বক্তব্য, নবনির্বাচিত কর্পোরেটরদের সঙ্গে একনাথ শিন্দের পরিচয় করানো এবং দলের কাছ থেকে তাঁদের প্রত্যাশা স্পষ্ট করতেই সকলকে এক জায়গায় রাখা হয়েছে।

২০২২ সালের জুলাই মাসে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় ভাঙন ধরিয়ে একনাথ শিন্দেকে সামনে রেখে সরকার গড়েছিল বিজেপি-নেতৃত্বাধীন মহাজুটি। পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে মহাবিকাশ আঘাড়ীকে হারিয়েও ক্ষমতা ধরে রাখে ওই জোট। যদিও মুখ্যমন্ত্রী পদে বদল ঘটে—একনাথ শিন্দের জায়গায় দেবেন্দ্র ফডণবীস মুখ্যমন্ত্রী হন, শিন্দে হন উপমুখ্যমন্ত্রী। সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও এক সময় শিন্দে শিবিরে অসন্তোষ দানা বাঁধে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মেয়র নির্বাচন ঘিরে সেই পুরনো টানাপড়েন ফের মাথাচাড়া দিতে পারে বলেই আশঙ্কা ছিল। কিন্তু শিন্দেসেনার তরফে ‘জনাদেশ মানা হবে’—এই ঘোষণায় আপাতত বিজেপি শিবির কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। এখন সকলের নজর, শেষ পর্যন্ত মুম্বইয়ের মেয়র কার হাতে যায়, সেই দিকেই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত