নজরবন্দি ব্যুরোঃ কৃষ্ণনগরে অসংলগ্ন মুকুল, বিজেপি বিধায়ক-তৃণমূলের নেতা মুকুল রায় গতকাল নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে বসেই যা কিছু বলেছেন তা নিয়ে এই মুহুর্তে যথেষ্ট বিব্রত বঙ্গ তৃণমূল। পদ্মবন ছেড়ে ঘাসফুলে মুকুল আসার পর থেকে ত্রিপুরা সহ একাধিক যায়গায় বল বেড়েছে তৃণমূলের।
আরও পড়ুনঃ প্যাকার্স অ্যান্ড মুভার্স এর সঙ্গে কথা পাকা, দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরছেন বাবুল


পুরানো মান অভিমান ভূলে গিয়ে মমতাও প্রায় বছর চারেক পরে ঘরে ফেরা মুকুলকে ফিরিয়ে দিয়েছেন নিজের পুরানো ঘর। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও দিয়েছেন তাঁর কাঁধে। তবে গতকাল কৃষ্ণনগরের রায় মন্তব্যের যুক্তি দিতে খেই হারাচ্ছে মা-মাটি-মানুষের দল। কেউ কেউ এড়িয়ে যাচ্ছেন গোটা প্রসঙ্গ, কেউ বা বুঝিয়ে দিচ্ছেন ঠিক কী পরিমাণ বিড়ম্বনার স্বীকার হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
গতকাল নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে মুকুল রায় আচমকাই বলে বসেন, ‘কৃষ্ণনগরে উপনির্বাচন হলে তৃণমূল পর্যূদস্ত হবে। বিজেপি স্বমহিমায় ফিরে আসবে।’ তাঁকে পাশ থেকে বারবার শুধরে দেওয়ার চেষ্টা হলেও তিনি একই কথা বলেন। পরে যতক্ষণে তিনি শুধরেছেন নিজের কথা ততক্ষণে নেট মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর সেই বক্তব্য।

তাঁর পর থেকেই বিব্রত তৃণমূল নেমেছে ড্যামেজ কন্ট্রোলে। কেউ কেউ বলছেন গত কয়েকমাসে দল বিয়োগ থেকে পত্নী বিয়োগের একের পর এক ধাক্কায় মন ভালো নেই রায় সাহেবের। শারীরিক এবং মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত তিনি। কেউ কেউ বলছেন পটাশিয়াম-সোডিয়ামের ভারসাম্য বিগড়ে যাওয়ার ফলে গতকাল অসংলগ্ন কথা বলে ফেলেছেন। কোন পক্ষ বলছে নিজে জিতলেও ‘রাজনীতির চাণক্য’ মর্যাদা নিয়ে নিজের পুত্রকেই ভোটে জেতাতে না পারার আক্ষেপ যায়নি মন থেকে। সব মিলিয়ে তাঁদের সবার যুক্তি এক, ‘শরীর-মন ভালো নেই দাদার’।



তবে দলের তরফ থেকে ড্যমেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা হলেও আগামী সোমবার মমতা রায়সাহেবকে সফরসঙ্গী করবেন কিনা তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। দলত্যাগ থেকে ফের পুরানো ঘরে ফিরে আসা মমতা মুকুলের প্রতি সদয় বরাবরই। তবে গতকাল মুকুল যেভাবে অসংলগ্ন কথা বলেছেন দলের একাংশ ভাবছেন এর পরে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে সফরসঙ্গী করবেন কিনা তা নিয়ে।

উল্লেখ্য আগামী সোমবার মুকুল-মমতার ঝাড়গ্রাম যাওয়ার কথা আদিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে। তাঁর আগেই মুকুলের এহেন মন্তব্যে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিয়েছে বলে দাবি দলের একাংশের। তাঁরা মনে করছেন এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দলনেত্রী। তিনি যদি মনে করেন সোমবার সফরে মুকুল যাবেন, তাহলে যাবেন। আপাতত সপ্তাহ শেষের শনি-রবি বারের দিকে তাকিয়ে তাঁরা।







