ক্ষমতা ছাড়ার পর কোথায় থাকছেন মুহাম্মদ ইউনূস? ‘যমুনা’ ছাড়ার প্রস্তুতি, নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য শুরু হবে সংস্কার

অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’ ছাড়ার প্রস্তুতিতে মুহাম্মদ ইউনূস। নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠবেন সংস্কারের পর, শুরু প্রশাসনিক রদবদল।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার নজর সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা ও বাসস্থানের দিকে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করতেই আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব শেষ হয়েছে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের। আর সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’ কি ইতিমধ্যেই ছেড়েছেন নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ?

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার তিনদিনের মাথায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন ড. ইউনূস। সে সময় সরকারপ্রধানের সরকারি বাসভবন গণভবন ভাঙচুরের কারণে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’কে তাঁর সরকারি আবাসন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই ওই বাসভবন ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা জোনের এডিসি মীর আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, বর্তমানে ড. ইউনূস এখনও যমুনাতেই অবস্থান করছেন। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তিনি গুলশানে নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে ফিরে যাবেন।

অন্যদিকে, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভবিষ্যতে ‘যমুনা’তেই উঠবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। তবে তার আগে বাসভবনে সংস্কারের কাজ করা হবে। নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের মতে, সংস্কার শেষ হতে আনুমানিক দুই মাস সময় লাগতে পারে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজন অনুযায়ী ভবনের কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন করা হবে। তাঁর কথায়, বাসভবন খালি পাওয়ার পর প্রায় এক মাসের মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক আলোচনাও সামনে এসেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার সময় বাংলাদেশের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ ট্রিলিয়ন টাকা, যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নাগাদ বেড়ে দাঁড়ায় ১৮,৮৮,৭৮৭ কোটি টাকায়। এর মধ্যে ভারতের কাছে বাংলাদেশের ঋণ প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার—ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা এবং বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ ট্রিলিয়ন টাকারও বেশি। এই ঋণের বড় অংশই বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পভিত্তিক সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তান্তরের পর প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, বাসভবন পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা—সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি এখন নতুন অধ্যায়ের সূচনায় দাঁড়িয়ে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর