লোকসভায় ঝড় উঠল! স্পিকার ওম বিড়লাকে অপসারণের প্রস্তাব গৃহীত, সভাপতিত্ব নিয়েই তুমুল বিতর্ক

লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে অপসারণের প্রস্তাব গৃহীত। সভাপতিত্ব কে করবেন তা নিয়ে সংসদে তীব্র বিতর্ক, শুরু হল ১০ ঘণ্টার আলোচনা।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

লোকসভায় বিরোধীদের অভিযোগ— ক্ষমতাসীন দলের প্রতি পক্ষপাত দেখাচ্ছেন স্পিকার ওম বিড়লা। সেই অভিযোগের জেরেই মঙ্গলবার তাঁকে স্পিকারের পদ থেকে অপসারণের দাবিতে আনা বিরোধী প্রস্তাব গ্রহণ করল লোকসভা। প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংসদে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক, বিশেষ করে স্পিকার অনুপস্থিত থাকাকালীন অধিবেশনের সভাপতিত্ব কে করবেন তা নিয়ে।

মঙ্গলবার লোকসভায় কংগ্রেস সাংসদ মোহাম্মদ জাভেদ স্পিকার ওম বিড়লাকে অপসারণের দাবিতে আনা প্রস্তাবের নোটিস পড়ে শোনান। এই প্রস্তাবে সমর্থন জানান কংগ্রেসের কে সুরেশ এবং মাল্লু রবি-সহ একাধিক বিরোধী সাংসদ। নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়ায় প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হয়।

সভাপতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন

জাভেদের নোটিস পড়া শুরু হতেই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেন এআইএমআইএম প্রধান ও সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্পিকার অনুপস্থিত থাকাকালীন কীভাবে বিজেপি সাংসদ জগদম্বিকা পাল অধিবেশনের সভাপতিত্ব করছেন।

ওয়েইসির যুক্তি ছিল, কোনও প্রস্তাব খারিজ করার ক্ষমতা কেবল স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের থাকে। জগদম্বিকা পাল এই দুই পদের কোনওটিতেই নেই, ফলে তাঁর সভাপতিত্ব নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন উঠতে পারে।

বিজেপির পাল্টা জবাব

ওয়েইসির এই আপত্তির জবাবে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে সংসদের বিধি এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার উল্লেখ করে বলেন, অধিবেশনের সভাপতিত্ব নিয়ে কোনও অসংগতি নেই।

কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুও ওয়েইসির অভিযোগকে “অপ্রাসঙ্গিক” বলে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট সময়ে জগদম্বিকা পাল লোকসভার সভাপতিত্ব করার জন্য নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদিত ছিলেন।

তৃণমূলের বক্তব্য

এই বিতর্কের মাঝেই বক্তব্য রাখতে ওঠেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায়। তিনি বলেন, যদি স্পিকারের অপসারণ সংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়, তাহলে সেই অধিবেশন পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে একজন প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগের প্রস্তাব আনা উচিত।

প্রস্তাব গৃহীত

তবে এই সমস্ত আপত্তি সত্ত্বেও জগদম্বিকা পাল ভোটের নোটিস দেন এবং প্রস্তাব সমর্থনে কমপক্ষে ৫০ জন সাংসদকে দাঁড়াতে বলেন। প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য দাঁড়িয়ে সমর্থন জানানোর পর প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। এরপর কংগ্রেস সাংসদ মোহাম্মদ জাভেদ প্রস্তাবটি পড়ে শোনান এবং তা নিয়ে আলোচনার পথ খুলে যায়।

শুরু হল দীর্ঘ বিতর্ক

লোকসভায় কংগ্রেসের সহদলনেতা গৌরব গগৈ এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। এই বিতর্কের জন্য মোট ১০ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করা হয়েছে।

আলোচনার শুরুতেই গগৈ আবারও প্রশ্ন তোলেন— স্পিকারের অপসারণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলাকালীন লোকসভায় সভাপতিত্বের দায়িত্ব কে নেবেন।

এর মধ্যেই দুপুর ১টায় মধ্যাহ্নভোজের বিরতি শুরু হওয়ায় আপাতত অধিবেশন স্থগিত করা হয়।

সব মিলিয়ে স্পিকারকে ঘিরে বিরোধীদের এই প্রস্তাব লোকসভায় নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর