ঘরোয়া ক্রিকেটে এখনও তিনি ভরসার অন্য নাম। বয়স, চোট, বাদ পড়া— কোনও কিছুই দমাতে পারেনি তাঁকে। কিন্তু জাতীয় দলে ডাক এখনও অধরা। তবু আশা ছাড়ছেন না Mohammed Shami। সরাসরি নির্বাচকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা— দেশের জার্সি গায়ে চাপাতে পারলে নিজের সামর্থ্যের শেষ বিন্দু পর্যন্ত উজাড় করে দেবেন।
এই মরশুমে বাংলার হয়ে দুরন্ত পারফরম্যান্স করেছেন শামি। Ranji Trophy-তে দলের সেমিফাইনালে ওঠার অন্যতম কারিগর তিনিই। ধারাবাহিক লাইন-লেংথ, গতি এবং অভিজ্ঞতায় এখনও ঘরোয়া ব্যাটারদের কাছে আতঙ্কের নাম শামি। অথচ জাতীয় দলে এখনও ব্রাত্য।


নির্বাচকদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে শামি বলেন,“তুমি যাই করো, যে খেলাই খেলো, যদি তোমার মধ্যে প্রতিভা থাকে, সেটাকে নষ্ট করো না। যদি সামর্থ্য থাকে, নিজের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করো।” নিজের প্রসঙ্গে যোগ করেন, “দেশের প্রতিনিধিত্ব করার প্রশ্ন এলে আমি নিজের সবটা নিংড়ে দিতে চাই।”
এই মন্তব্যে স্পষ্ট— এখনও জাতীয় দলে ফেরাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
পরিসংখ্যানই বলছে তাঁর মূল্য
সাদা বলের ক্রিকেটে গত এক দশকে বিশ্বের অন্যতম কার্যকর পেসার শামি। বিশেষ করে আইসিসি টুর্নামেন্টে বড় মঞ্চে তাঁর জ্বলে ওঠা নজরকাড়া।


-
তিনটি বিশ্বকাপে ১৮ ম্যাচে ৫৫ উইকেট
-
দেশের মাটিতে শেষ বিশ্বকাপে ৭ ইনিংসে ২৪ উইকেট (সর্বোচ্চ শিকারী)
-
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান
স্ট্রাইক রেটের বিচারে অন্তত ২০ উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে তাঁর পরিসংখ্যান শীর্ষ পর্যায়ের।
তবু দরজা বন্ধ কেন?
গত এক বছরে একাধিকবার নির্বাচকরা তাঁর খেলা দেখেছেন। কথাবার্তাও হয়েছে। তবু জাতীয় দলের দরজা খুলছে না। চোটের ধাক্কা কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হলেও সুযোগ আসেনি। নতুন প্রজন্মের পেসারদের দিকে ঝুঁকেছে টিম ম্যানেজমেন্ট— এমনটাই মনে করছেন অনেকেই।
লড়াই এখনও জারি
৩৪ পেরিয়ে গেলেও শামির ফিটনেস ও রিদমে খুব একটা ঘাটতি নেই। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি যেন নির্বাচকদের বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন— “আমি এখনও প্রস্তুত।”
জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের লড়াইয়ে তিনি হাল ছাড়েননি। এখন দেখার, নির্বাচকরা তাঁর অভিজ্ঞতা ও পরিসংখ্যানকে কতটা গুরুত্ব দেন।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



