ঘরোয়া ক্রিকেটে টানা ভালো পারফরম্যান্সের সুবাদে আবারও জাতীয় দলে ফেরার দরজা খুলে যেতে পারে মহম্মদ শামি-র জন্য। শেষবার গত ৯ মার্চ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতের জার্সিতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। প্রায় ১০ মাস পর নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন এক দিনের সিরিজ়ে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বোর্ড সূত্রের খবর, শামির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নির্বাচকদের আলোচনায় এসেছে। সূত্রের বক্তব্য, ফিটনেস নিয়ে একসময় উদ্বেগ থাকলেও শামির দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। এমনকি ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপের পরিকল্পনাতেও তাঁকে ভাবা হচ্ছে—এমন ইঙ্গিতও মিলেছে।


২০২৩ সালের এক দিনের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৩ উইকেট নিয়ে নজির গড়েছিলেন শামি, যদিও টুর্নামেন্টের প্রথম চার ম্যাচে সুযোগ পাননি। পরে চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে ছিলেন। প্রত্যাবর্তনের পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পারফরম্যান্স প্রত্যাশামতো না হওয়ায় তাঁকে আর দলে রাখা হয়নি।
নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর একসময় জানিয়েছিলেন, শামির চোট সংক্রান্ত স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় তাঁকে দলে নেওয়া যায়নি। জাতীয় দলে সুযোগ না পেয়ে হতাশার কথাও প্রকাশ্যে বলেছিলেন শামি। তবে এরপর রঞ্জি ট্রফি, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি ও বিজয় হাজারে ট্রফিতে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স নির্বাচকদের মনোযোগ কেড়েছে।
পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ—রঞ্জিতে চার ম্যাচে ২০ উইকেট, সৈয়দ মুস্তাক আলিতে ১৬ উইকেট এবং বিজয় হাজারেতে চার ম্যাচে ৮ উইকেট। সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের বিরুদ্ধে মাত্র ৬ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেওয়াও প্রশংসা কুড়িয়েছে।


নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ়ে জসপ্রীত বুমরাহ-কে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। সেই শূন্যস্থান পূরণে শামিই এগিয়ে আছেন বলে মনে করা হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ়ে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, অর্শদীপ সিং ও হর্ষিত রানার পারফরম্যান্স পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি নির্বাচকদের।
সব মিলিয়ে, নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে সুযোগ পেলে তা কাজে লাগিয়ে জাতীয় দলে স্থায়ী প্রত্যাবর্তনের পথে এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারেন বাংলার এই অভিজ্ঞ পেসার।







