ফরম্যান্সের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দলের প্রয়োজন, ফরম্যাট, প্রতিপক্ষ এবং খেলোয়াড়ের শারীরিক অবস্থার মতো বিষয়ও নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তন নিয়ে কী বললেন বঙ্গ পেসার?
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ভারতীয় দলে জায়গা পেয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার। প্রায় চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরছেন ৩৬ বছর বয়সি এই পেসার। তাঁর প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে আইপিএলে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে।
ভুবনেশ্বরের দলে ফেরা নিয়ে শামি বলেছেন, তিনি এই প্রত্যাবর্তনে খুশি। তবে ভুবির নির্বাচন নিয়ে নিজের মাথাব্যথা নেই বলেও জানিয়েছেন বাংলার পেসার। তাঁর বক্তব্য, “ভুবনেশ্বর ভারতীয় দলে ফিরেছেন, সেটা খুব ভালো ব্যাপার। কিন্তু ওর নির্বাচন নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই।”
এর পরেই নিজের জাতীয় দলে ফেরার প্রসঙ্গে শামির মন্তব্য, “যদি আমি ভারতীয় দলে খেলার সুযোগ না পাই, সেটা আমার ব্যর্থতা নয়।”
শামির এই বক্তব্য ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তন দেখিয়েছে যে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের জন্য জাতীয় দলের দরজা বন্ধ নয়। অন্যদিকে শামির ক্ষেত্রে নির্বাচকেরা কী সিদ্ধান্ত নেন, তা নির্ভর করবে তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং দলের প্রয়োজনের উপর।
ঘরোয়া ক্রিকেটে শামির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাঁর দাবিকে জোরালো করেছে, এমনটাই মনে করছেন অনেক ক্রিকেটপ্রেমী। রনজি ট্রফিতে ৩৭টি উইকেট এবং বিজয় হাজারে ট্রফিতে ১৫টি উইকেট তাঁর ধারাবাহিকতার পরিচয় দেয়। দীর্ঘ চোটের পর মাঠে ফিরে নিজেকে প্রমাণ করাও তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
তবে ভুবনেশ্বর ও শামির প্রত্যাবর্তনের পরিস্থিতি এক নয়। ভুবনেশ্বরকে বেছে নেওয়া হয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য। তাঁর সুইং, নতুন বলে বোলিং এবং সাম্প্রতিক আইপিএল পারফরম্যান্স এই ফরম্যাটে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শামির অভিজ্ঞতা মূলত পেস, সিম মুভমেন্ট এবং দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেটে তাঁর সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত হলেও বিভিন্ন ফরম্যাটে তাঁর ব্যবহার নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তাই শুধু ভুবনেশ্বর দলে ফিরেছেন বলেই শামির প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত, এমনটা বলা যায় না। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে নিজের দাবি জানানোর সুযোগ তাঁর সামনে রয়েছে।
প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরকে ঘিরে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর নির্বাচনী সমীকরণ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু নির্বাচক বদল বা প্রশাসনিক পরিবর্তনের সঙ্গে শামির জাতীয় দলে ফেরার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই। তাঁর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে নির্বাচক কমিটি ও টিম ম্যানেজমেন্টের মূল্যায়নের উপর।
আগামী রনজি মরশুম শামির কাছে তাই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলার হয়ে ধারাবাহিকভাবে উইকেট নেওয়া, ফিটনেস ধরে রাখা এবং ম্যাচের পর ম্যাচ নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করতে পারলে জাতীয় দলে ফেরার দাবি আরও জোরালো হতে পারে।
এই মুহূর্তে শামির বক্তব্যে হতাশার পাশাপাশি নিজের কাজের উপর আস্থার বার্তাও রয়েছে। তিনি জানেন, শেষ পর্যন্ত মাঠের পারফরম্যান্সই তাঁর হাতে। ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তন নতুন করে আশার আলো দেখালেও ভারতীয় দলে শামির কামব্যাক কবে হবে, তার উত্তর এখনও অজানা।



