দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক, বাড়ির সামনে ধর্নায় বসতেই গাড়িতে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ

দিল্লিতে নিজের বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করে পুলিশ। CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ও নেহা বোরার আটকের ঘটনাও বিক্ষোভকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লিতে কক্‌রোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party বা CJP)-র বিক্ষোভ ঘিরে ধরপাকড়ের মধ্যেই আটক হলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শনিবার, ১০ অক্টোবর, দিল্লিতে নিজের বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসার পর তাঁকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। এর আগে CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ তিন নেতাকে আটক করা হয়েছিল। বিক্ষোভের বিকল্প কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া নেহা বোরাকেও আটক করা হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে রাজধানীতে পুলিশি তৎপরতা আরও বেড়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না শুরু হয় দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের আটকের প্রতিবাদে। যন্তর মন্তরে কর্মসূচির অনুমতি না মেলায় আন্দোলনকারীরা বিকল্প জায়গায় জমায়েতের চেষ্টা করেন। এর মধ্যেই CJP-র শীর্ষ নেতাদের আটক করার ঘটনায় প্রতিবাদ আরও জোরালো হয়। মমতার ধর্না সেই প্রতিবাদেরই অংশ।

এর আগে দিল্লি বিমানবন্দরে বিমানের ভিতর থেকেই আটক করা হয় CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে। মুম্বই থেকে দিল্লিতে পৌঁছনোর পর তাঁদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। দলের তরফে জানানো হয়, শীর্ষ নেতারা আটক হলেও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (All India Students’ Association বা AISA) নেত্রী নেহা বোরার নেতৃত্বে যন্তর মন্তরের বদলে দিল্লি হাটের দিকে মিছিল এগোনোর চেষ্টা হয়। পথে ব্যারিকেড সরিয়ে মিছিল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার খবর সামনে আসে। পরে নেহা বোরাকেও আটক করে পুলিশ।

এই বিক্ষোভের মূল দাবি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে আন্দোলনকারীরা। তবে এই অভিযোগগুলি আন্দোলনকারীদের বক্তব্য; সেগুলিকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।

দিল্লি পুলিশ আগে থেকেই যন্তর মন্তরের কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। পুলিশের বক্তব্য, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই নেতাদের আটক করে প্রতিবাদ করার অধিকার বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।

রাজধানীর একাধিক এলাকায় ব্যারিকেড, কড়া পুলিশি নজরদারি এবং পরিবহণে বিধিনিষেধের কারণে সাধারণ যাত্রীদেরও সমস্যায় পড়তে হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাঁকে কতক্ষণ আটক রাখা হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে পরবর্তী আপডেট গুরুত্বপূর্ণ। CJP-র নেতাদের পাশাপাশি মমতা ও নেহা বোরার আটকের ঘটনায় বিক্ষোভ এখন আরও বড় রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন