মহালয়ার মেগা ইভেন্ট থেকে দুর্গাপুজো কমিটিগুলির জন্য বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন করে ১২,৪০০টি দুর্গাপুজো কমিটিকে অনুমোদন দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই কমিটিগুলিকেও সরকারি আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। আগে পুজো কমিটিগুলিকে এক লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামীকাল থেকেই সেই অর্থ পাওয়া যাবে।
শনিবার ইডেনে রাজ্য সরকারের আয়োজিত মহালয়ার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক সাহায্যের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগে রাজ্যে প্রায় ৪৫ হাজার পুজো কমিটি অনুমোদিত ছিল। এবার নতুন করে আরও ১২,৪০০টি কমিটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এই নতুন কমিটিগুলিও সরকারি অনুদান পাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পুজোর প্রস্তুতির সময় এই আর্থিক সাহায্য ক্লাব ও পুজো উদ্যোক্তাদের কাজে লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অনুদান পাওয়ার নির্দিষ্ট শর্ত বা অর্থ বিতরণের বিস্তারিত প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রদত্ত তথ্যে কিছু জানানো হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, পুজো কমিটিগুলিকে এক লক্ষ টাকা করে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেই টাকা আগামীকাল থেকেই পাওয়া যাবে। ফলে নতুন অনুমোদিত কমিটিগুলির পাশাপাশি অনুদান পাওয়ার যোগ্য অন্যান্য কমিটির ক্ষেত্রেও অর্থ বিতরণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে কলকাতার ২০০-রও বেশি দুর্গাপুজো কমিটি সরকারি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দুর্গাপুজোর মতো বড় সাংস্কৃতিক আয়োজনে সরকারি সাহায্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। এবার অনুদান গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া কমিটিগুলির প্রসঙ্গও মহালয়ার মঞ্চে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে কোন কোন পুজো কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হয়নি।
মহালয়ার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দুর্গাপুজোকে বাংলার অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর বক্তব্য, এই উৎসব বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়েছে।
দুর্গাপুজোকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও ধন্যবাদ জানান তিনি। বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই স্বীকৃতির গুরুত্বের কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, পিতৃপক্ষে নয়, মাতৃপক্ষ তথা দেবীপক্ষেই দুর্গাপুজোর সূচনা করা হবে। সেই সিদ্ধান্ত মেনেই মহালয়ার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য।
সব মিলিয়ে, মহালয়ার মঞ্চ থেকে একদিকে নতুন পুজো কমিটিগুলির অনুমোদন ও আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা সামনে এসেছে, অন্যদিকে বাংলার দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক পরিচিতির প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। এখন নজর থাকবে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণামতো অনুদানের অর্থ কবে থেকে এবং কীভাবে কমিটিগুলির হাতে পৌঁছয়, তার দিকে।



