ভোট চুরি বিতর্কে রাহুল-খাড়্গেদের আর্জি খারিজ CJI সূর্য কান্তের! বৈঠকে রাজি হলেন না প্রধান বিচারপতি

‘ভোট চুরি’ অভিযোগে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে বৈঠকের আর্জি খারিজ। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক রাহুল গান্ধী ও INDIA জোটের, SIR বন্ধ ও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

‘ভোট চুরি’ (Vote Chori) নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের মধ্যে নতুন মোড়। INDIA জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের আর্জি খারিজ করেছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Chief Justice of India Surya Kant)। সোমবার, ১২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে। কিন্তু রবিবার ইমেলে তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই বৈঠকে সম্মতি দেওয়া হচ্ছে না। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি ইতিমধ্যেই আদালতের বিচারাধীন থাকায় এমন বৈঠক উপযুক্ত হবে না বলে জানানো হয়েছে প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে।

বিরোধীদের এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR স্থগিত করা এবং নির্বাচনে ব্যালট পেপার ফিরিয়ে আনা। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর এবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে চেয়েছিলেন INDIA জোটের নেতারা। বৈঠকের অনুমতি না মেলায় সোমবারের কর্মসূচি ও তার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নজর রয়েছে।

রবিবারের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়্গে সোমবার বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া। তবে প্রধান বিচারপতির দফতরের ইমেল-জবাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা গেলেও, বৈঠক না হওয়ার বিষয়টি ছাড়া অন্য কোনও পৃথক বিচারিক নির্দেশ এই ঘটনায় ঘোষণা করা হয়নি।

এর আগে শুক্রবার, ৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) সঙ্গে দেখা করেছিলেন INDIA জোটের প্রতিনিধিদল। সেখানে ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। বিরোধীদের দাবিগুলির মধ্যে ছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, গত দু’বছরে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনগুলি পর্যালোচনা বা বাতিলের দাবি, SIR প্রক্রিয়া বন্ধ করা এবং ব্যালট পেপারে ভোট ফেরানো। পাশাপাশি, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে তাঁদের দাবি, এমন ১৩.৩০ কোটি ভোটারের নাম পুনর্বহালের দাবিও জানানো হয়েছিল। এই সংখ্যাটি বিরোধীদের দাবি, স্বাধীনভাবে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর রাহুল গান্ধী দাবি করেন, দ্রৌপদী মুর্মু তাঁদের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেননি; বরং প্রমাণ দিতে বলেছেন। সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপি পাল্টা আক্রমণ করে। বিজেপির বক্তব্য, রাষ্ট্রপতি কোনও স্মারকলিপি গ্রহণ করলেই তার সমস্ত অভিযোগকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। বিরোধীদের অভিযোগ এবং শাসকদলের পাল্টা বক্তব্য—দু’টিই রাজনৈতিক অবস্থান; ভোটে অনিয়মের অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার আগে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জরুরি।

সোমবারের কর্মসূচি ঘোষণা করতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ এবং যুবসমাজকে সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নের সমাধান করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগের জবাব দিতে হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিরোধীরা আদালতের কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে চাইছেন। তবে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠক না হওয়া এবং আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও আবেদন বা মামলা দায়ের করা—দুটি আলাদা বিষয়।

বিজেপির নেতারাও বিরোধীদের এই কর্মসূচির সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতবিরোধের নিষ্পত্তি রাস্তায় আন্দোলনের মাধ্যমে নয়, সাংবিধানিক ও সংসদীয় ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই হওয়া উচিত। ফলে ‘ভোট চুরি’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে INDIA জোট ও বিজেপির সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। তবে এই রাজনৈতিক বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নির্ভর করবে অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ সামনে আসে, নির্বাচন কমিশন কী ব্যাখ্যা দেয় এবং আদালতে বিষয়গুলি কীভাবে বিবেচিত হয়, তার উপর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Advertisement

সদ্য প্রকাশিত