তিন দাবিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযান INDIA জোটের, ‘কাল সারা ভারত হাঁটবে’- বললেন রাহুল

ভোটার তালিকার এসআইআর স্থগিত, ‘ভোটচুরি’ বন্ধ ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিলের ডাক দিলেন রাহুল গান্ধী। প্রধান বিচারপতিকে স্মারকলিপি দেবে বিরোধী জোট।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

‘ভোটচুরি’ বন্ধ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) স্থগিত এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ—এই তিন দাবিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিল করবে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। রবিবার এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী জানান, রাজনৈতিক দল, জাত, ধর্ম, লিঙ্গ ও রাজ্যের বিভেদ ভুলে গণতন্ত্র এবং সংবিধানে বিশ্বাসী মানুষের এই মিছিলে যোগ দেওয়া উচিত। বিরোধীদের পরিকল্পনা, মিছিলের পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া।

রবিবার হাতে সংবিধান নিয়ে একটি ভিডিয়ো বার্তায় রাহুল বলেন, সোমবার তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দিকে হাঁটবেন। যুব সম্প্রদায়, বিরোধী দল এবং নাগরিক সংগঠনগুলির পাশাপাশি গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষকেও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রাহুলের কথায়, “কাল সারা ভারত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিলে হাঁটবে।”

বিরোধী জোটের তিনটি দাবি হল, নির্বাচনে ‘ভোটচুরি’ বন্ধ করা, এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানো। ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি দীর্ঘদিনের। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ বিরোধীদের রাজনৈতিক দাবি; একে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখা যায় না।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চাওয়া হয়েছে। বিরোধী নেতারা স্মারকলিপিতে তাঁদের দাবিগুলি তুলে ধরে আদালতের হস্তক্ষেপ চাইবেন। প্রতিনিধিদলে রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির থাকার কথা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।

রবিবারের ভিডিয়ো বার্তায় রাহুল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবতকেও আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, এই নেতারা দেশের মানুষের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করতে পারবেন না। বিরোধী নেতার এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপট, সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে চলা রাজনৈতিক বিরোধ।

শনিবার দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা তরুণদের পুলিশ এবং বিজেপি-সমর্থকেরা মারধর করেছেন। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, বিক্ষোভকারীরা ঘৃণা বা হিংসা নয়, ভালোবাসা নিয়েই প্রতিবাদে এসেছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে প্রতিবাদ, আটক এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনের দফতর এবং দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখিয়েছে বিরোধী জোট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ও শাসক পক্ষের বক্তব্যও এই বিতর্কের অংশ। ফলে সোমবারের মিছিলের কেন্দ্রে থাকছে শুধু কোনও একজন আধিকারিকের অপসারণের দাবি নয়, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিরোধীদের আপত্তিও।

সোমবারের কর্মসূচিতে কতগুলি বিরোধী দল, নাগরিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ যোগ দেন, এবং প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সুযোগ মেলে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিরোধীরা এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তাঁদের অভিযোগ দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সামনে তুলে ধরতে চাইছেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Advertisement

সদ্য প্রকাশিত