‘দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে’, জ্ঞানেশ কুমারের পাশাপাশি মোদিকেও নিশানা CJP-র

দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে CJP-র বিক্ষোভ ঘিরে ধরপাকড়ের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা দলের নেতাদের। সাংবাদিকদের আটক করা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে ধরপাকড়ের প্রতিবাদে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও নিশানা করল ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party বা CJP)। দলের নেতাদের অভিযোগ, নাগরিক ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করছে সরকার। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও বার্তা দিয়েছেন তাঁরা। পুলিশি বাধা ও ধরপাকড়ের পরেও রাস্তা ছাড়তে নারাজ আন্দোলনকারীরা।

শনিবার, ১০ অক্টোবর দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল CJP এবং কয়েকটি ছাত্র সংগঠন। কিন্তু যন্তর মন্তরে যাওয়ার আগেই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনকারীদের আটক করে পুলিশ। বিরোধী নেতাদের পাশাপাশি ছাত্র, আইনজীবী, সমাজকর্মী এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদেরও আটক করার অভিযোগ সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি ছিল, নির্ধারিত নিয়ম মেনে বিক্ষোভের অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং নিরাপত্তার কারণে জমায়েত আটকানো প্রয়োজন।

এই ধরপাকড়ের পরেই সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে CJP। দলের নেতাদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার মানুষের রয়েছে। সেই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পরিবর্তে আন্দোলনকারীদের আটক করে প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি এবার কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলছে দলটি।

রবিবারও দিল্লিতে বিক্ষোভের রেশ অব্যাহত ছিল। CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke), সঙ্গী সৌরভ দাস (Saurav Das) এবং আশুতোষ রানকা (Ashutosh Ranka)-কে আটক করার পর আদালতের নির্দেশে মুক্তি দেওয়া হয়। তাঁদের মুক্তির ক্ষেত্রে শান্তি বজায় রাখার শর্তের কথা সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, ধরপাকড় করে তাঁদের প্রতিবাদ থামানো যাবে না।

বিক্ষোভ চলাকালীন সাংবাদিকদের আটক করার ঘটনাও আলাদা করে বিতর্ক তৈরি করেছে। সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও কয়েক জন সাংবাদিককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তাঁদের আটক করার কারণ এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ ছিল, সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যও প্রতিবেদনে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা প্রয়োজন।

CJP-র আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগ। বিরোধীদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের কাজ নিয়ে ওঠা অভিযোগকে রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবেই দেখছে শাসক শিবির। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের নিষ্পত্তি এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের সংঘাত—দুই বিষয়ই এখন জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে এসেছে।

CJP-র নেতারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানালেও, দিল্লিতে পরবর্তী বিক্ষোভের ক্ষেত্রে প্রশাসনের অবস্থান কী হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি, অন্যদিকে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পদক্ষেপ—এই দুইয়ের সংঘাতে নাগরিকের প্রতিবাদ করার অধিকার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাজধানীর স্বাভাবিক জনজীবন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Advertisement

সদ্য প্রকাশিত