CJP-র বিক্ষোভ ঘিরে কার্যত অবরুদ্ধ দিল্লি, ৫০০-র বেশি আটক! ধ্রুব রাঠি, পিনারাই বিজয়নও পুলিশের হেফাজতে

যন্তর মন্তরে CJP-র বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়। অভিজিৎ দীপকে, ধ্রুব রাঠি, পিনারাই বিজয়ন-সহ একাধিক নেতা আটক; মেট্রো, ট্রেন ও সড়ক চলাচলেও প্রভাব।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কক্‌রোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party বা CJP)-র বিক্ষোভ ঘিরে শনিবার, ১০ অক্টোবর কার্যত নিরাপত্তার ঘেরাটোপে দিল্লি (New Delhi)। যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত কর্মসূচি আটকাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫০০-র বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ বলে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, দলের নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবং কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। বিক্ষোভ ঘিরে ব্যারিকেড, যান নিয়ন্ত্রণ এবং মেট্রো পরিষেবায় বিধিনিষেধের জেরে সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও প্রভাব পড়েছে।

দিল্লি পুলিশের দাবি, বিভিন্ন জায়গা থেকে দলে দলে আসা প্রায় ৫০০ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধের পূর্ব ইতিহাস রয়েছে, এমন প্রায় ৫০ জনকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। অন্যদিকে, CJP-সহ বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, বিক্ষোভে যোগ দেওয়া আটকাতেই আগাম ধরপাকড় চালানো হয়েছে। পুলিশের পদক্ষেপের উদ্দেশ্য নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।

CJP-র তিন শীর্ষ নেতাকে আটক করার ঘটনাটি ঘটে বিমানবন্দরে। মুম্বই থেকে আসা তাঁদের বিমান দিল্লিতে নামার পর পুলিশকর্মীরা বিমানের ভিতরেই তাঁদের হেফাজতে নেন। পরে তাঁদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা প্রথম দিকে স্পষ্ট করেনি পুলিশ। CJP-র তরফে এই পদক্ষেপকে পূর্বপরিকল্পিত বলে অভিযোগ করা হয়েছে এবং তিন নেতার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।

CJP-র বিক্ষোভ ঘিরে কার্যত অবরুদ্ধ দিল্লি, ৫০০-র বেশি আটক! ধ্রুব রাঠি, পিনারাই বিজয়নও পুলিশের হেফাজতে
CJP-র বিক্ষোভ ঘিরে কার্যত অবরুদ্ধ দিল্লি, ৫০০-র বেশি আটক! ধ্রুব রাঠি, পিনারাই বিজয়নও পুলিশের হেফাজতে

ধ্রুব রাঠিকে তাঁর গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর। অন্যদিকে, সিপিআই(এম) (CPI(M))-এর একাধিক নেতাকেও দিল্লিতে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস এবং কেরলের প্রাক্তন মন্ত্রী কে এন বালগোপাল। বাম দলগুলির দাবি, CJP-র বিক্ষোভে সমর্থন জানাতে যাওয়ার পথেই তাঁদের আটক করা হয়েছে।

আম আদমি পার্টি (Aam Aadmi Party বা AAP)-র নেতা মণীশ সিসোদিয়াকেও আটক করা হয়েছে, তবে দিল্লিতে নয়—চণ্ডীগড়ে। ফলে বিক্ষোভ ঘিরে ধরপাকড়ের পরিধি রাজধানীর বাইরেও ছড়িয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলির সদস্য এবং আইনজীবীদের আটক করার খবরও সামনে এসেছে। স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (Students’ Federation of India বা SFI)-র এক নেতার দাবি, তাঁদের সংগঠনের ৪০০-র বেশি সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এই সংখ্যাটি সংগঠনের তরফে জানানো; পুলিশের প্রকাশিত মোট সংখ্যার সঙ্গে একে সরাসরি যোগ করা যাবে না।

নিরাপত্তার কারণে দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে, যানবাহন পরীক্ষা চলছে এবং একাধিক এলাকায় যানজটের খবর মিলেছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর ২টো পর্যন্ত ২৫০টিরও বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছিল। ফলে বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা মানুষজনের পাশাপাশি নিত্যযাত্রীদেরও সমস্যায় পড়তে হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। পুলিশের বক্তব্য, নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে আবেদন জমা পড়েছিল এবং নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। CJP-র দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্যই তাদের কর্মসূচি আটকানো হচ্ছে। বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়া এবং ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার ফর্ম ৬ (Form 6) ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে দলটি। এই অভিযোগগুলি রাজনৈতিক দলের বক্তব্য; সেগুলিকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।

মেট্রো ও রেল চলাচলে বিধিনিষেধ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও পদক্ষেপের খবর এসেছে। বিধিনিষেধের ফলে রেল ও মেট্রোর চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা যাবে না—শীর্ষ আদালতের এমন নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে আদালতে আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনকারীর দাবি এবং আদালতের নির্দেশের প্রকৃত পরিধি বিচার করে তবেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব।

এই ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—নির্বাচন কমিশনের কাজ নিয়ে নাগরিকদের প্রতিবাদ জানানোর অধিকার এবং সেই কর্মসূচি ঘিরে জননিরাপত্তা বজায় রাখার প্রশাসনিক দায়িত্ব। বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত, তার পর ব্যাপক আটক এবং পরিবহণে বিধিনিষেধ—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক প্রতিবাদের পরিসর ও প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাব এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তা-ই এখন এই ঘটনার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ দিক।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন