রনজি ট্রফিতে আগুনে ফর্মে থাকা মহম্মদ শামি (Mohammed Shami) এমন এক মন্তব্য করেছেন, যার ঝাঁজে কেঁপে উঠেছে বিসিসিআই (BCCI)। একপ্রকার “ফোঁস” করেই শামি বুঝিয়ে দিলেন—তাঁর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তোলা অযৌক্তিক। আর সেই মন্তব্যেই ঘুম ভেঙেছে নির্বাচক কমিটির।
শামির বার্তা: “আমি ফিট কিনা সেটা জানানো আমার দায়িত্ব নয়”
বাংলার হয়ে রনজিতে দুরন্ত বোলিংয়ে ৭ উইকেট তুলে নেন শামি। ম্যাচের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমি ফিট কিনা সেটা জানানো আমার দায়িত্ব নয়। আমার কাজ মাঠে নেমে পারফর্ম করা, বাকিটা নির্বাচকদের দায়িত্ব।”
এই বক্তব্যে সরাসরি নির্বাচক কমিটি ও বোর্ডের দিকে তোপ দেগেছেন শামি। বিশেষ করে নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগরকর (Ajit Agarkar)-এর দাবি নস্যাৎ করেছেন তিনি।
ফিটনেস বিতর্কে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান
আগরকর সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, “শামি এখনও সম্পূর্ণ ফিট নন, তাই তাঁকে ভারতীয় দলে নেওয়া হয়নি।” কিন্তু শামির পাল্টা বক্তব্য, “যদি আমি ফিট না থাকতাম, তাহলে কীভাবে বাংলার হয়ে রনজি ও দলীপ ট্রফি খেলতে পারলাম?”
এই মন্তব্যের পরই বোর্ডের ভেতরে তোলপাড়। সূত্রের খবর, বিসিসিআই কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এই সংঘাত প্রকাশ্যে এলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ড্যামেজ কন্ট্রোলে বিসিসিআই, মাঠে নামলেন নির্বাচক আরপি সিং
বোর্ডের উদ্বেগ এতটাই যে তারা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে সেন্ট্রাল জোন নির্বাচক রুদ্র প্রতাপ সিং (RP Singh)-কে পাঠিয়েছে কলকাতায়। ইডেন গার্ডেন্সে গুজরাতের বিরুদ্ধে বাংলার রনজি ম্যাচ চলাকালীন আরপি সিংকে শামির সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা যায়।
দু’জনই উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা, ফলে আঞ্চলিক যোগের কারণে কথাবার্তায় বরফ কিছুটা গলেছে বলেই সূত্রের দাবি। বিসিসিআই আশা করছে, আরপি সিংয়ের হস্তক্ষেপে ভুল বোঝাবুঝি মিটবে।
শামির ক্ষোভের পেছনে কী আছে?
২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি-র পর থেকে জাতীয় দলে দেখা যায়নি শামিকে। বোর্ডের মেডিকেল টিম জানিয়েছিল, তাঁর পূর্ণ ফিটনেস ফেরেনি। তবে শামির বক্তব্য, “আমি এনসিএতে নিয়মিত যাই, অনুশীলন করি, ম্যাচ খেলি। ফিটনেস রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সেটা নির্বাচকদের দেখা উচিত, আমার নয়।”
এই অবস্থান বোর্ডের প্রতি তাঁর অসন্তোষকে আরও প্রকট করেছে।
আগরকরের পাল্টা যুক্তি: “আমার ফোন সবার জন্য খোলা”
অজিত আগরকর বলেছেন, “আমি সব খেলোয়াড়ের সঙ্গেই কথা বলি। আমার ফোন সর্বদা খোলা থাকে। শামির ক্ষেত্রেও তা-ই করেছি।” তবে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সূত্রে খবর, দুই পক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, এবং এই বিভ্রান্তিই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বোর্ডের কৌশল: শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টা
বিসিসিআইয়ের শীর্ষস্তরে এখন একটাই লক্ষ্য—শামিকে শান্ত রাখা। কারণ আসন্ন আন্তর্জাতিক মরশুমে ভারতের বোলিং আক্রমণে তাঁর অভিজ্ঞতা অমূল্য। বোর্ডের এক কর্তা জানিয়েছেন, “আমরা চাই শামি দ্রুত জাতীয় দলে ফিরুন। সমস্ত ভুল বোঝাবুঝি দূর করা হবে।”
শামির নীরব বার্তা: মাঠেই জবাব
রনজিতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে শামি যেন বোর্ডকে কার্যত বার্তা দিয়েছেন—“আমি এখনও দেশের সেরা পেসারদের একজন।” ফিটনেস নিয়ে বিতর্কের মাঝেও তাঁর আগুনে পারফরম্যান্সই প্রমাণ করছে, বয়স নয়, মনোভাবই আসল শক্তি।



