ভোটের মুখে সিঙ্গুরের মাটি থেকে উন্নয়ন ও ঐতিহ্যের যুগল বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হুগলির সিঙ্গুরে দলীয় জনসভা থেকে স্পষ্ট ঘোষণা—বিজেপি সরকার গড়লে পশ্চিমবঙ্গে চালু হবে ‘এক জেলা, এক পণ্য’ নীতি। প্রতিটি জেলার নিজস্ব শক্তিকে কাজে লাগিয়েই রাজ্যের আর্থিক ও শিল্পোন্নয়ন ঘটানো হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি।
মোদীর বক্তব্য, বিজেপি শুধু উন্নয়ন নয়, ঐতিহ্যকেও সমান গুরুত্ব দেয়। “ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায়, স্বামী বিবেকানন্দ—এই মনীষীদের জন্মজয়ন্তী জাতীয় স্তরে পালনের উদ্যোগ আমাদের সরকারই নিয়েছে। বিকাশ ও ঐতিহ্য—এই দুইয়ের মডেলেই পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন হবে,” বলেন তিনি। মোদীর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই আলাদা আলাদা সম্ভাবনা রয়েছে—বড় নদী, উর্বর জমি, দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং মানুষের প্রতিভাই রাজ্যের আসল শক্তি।
সিঙ্গুরের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই জেলায় ধনিয়াখালির শাড়ি আছে, পাট শিল্প আছে, হস্তশিল্পের নানা সামগ্রী আছে। ‘এক জেলা, এক পণ্য’ প্রকল্পের মাধ্যমে এসব পণ্যের উৎপাদন ও বিপণনে উৎসাহ দেওয়া হবে। প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে কড়া নীতি নেওয়া হবে, পাট শিল্পকে আরও শক্তিশালী করা হবে।”
ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসঙ্গেও বিজেপি সরকারের কৃতিত্ব তুলে ধরেন মোদী। তাঁর কথায়, “বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতি আমাদের সরকারই দিয়েছে। এর ফলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণায় নতুন গতি এসেছে। বিজেপি সরকারের উদ্যোগেই দুর্গাপুজো ইউনেসকোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে।”
এদিন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মরণেও বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “দিল্লির কর্তব্যপথে ইন্ডিয়া গেটের সামনে নেতাজির মূর্তি বসিয়েছে বিজেপি সরকার। প্রথমবার লালকেল্লা থেকে আজাদ হিন্দ ফৌজের অবদান স্মরণ করা হয়েছে। আন্দামান-নিকোবরে নেতাজির নামে দ্বীপের নামকরণও আমরা করেছি।” পাশাপাশি ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মজয়ন্তী থেকে জাতীয় অনুষ্ঠান শুরুর সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রাজনৈতিক আক্রমণেও পিছপা হননি মোদী। তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে তাঁর বক্তব্য, “বিহারে এনডিএ জঙ্গলরাজকে রুখে দিয়েছে। এবার পশ্চিমবঙ্গও টিএমসি-র মহাজঙ্গলরাজকে বিদায় করতে প্রস্তুত।” নতুন স্লোগান তুলে ধরে তিনি বলেন, “পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।”
সব মিলিয়ে সিঙ্গুরের সভা থেকে মোদীর বার্তা স্পষ্ট—উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও পরিবর্তনের ডাক দিয়েই ভোটের ময়দানে ঝাঁপাল বিজেপি।



