ভোটের আবহে বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে নতুন মাত্রা যোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শিলিগুড়ির জনসভা থেকে তিনি বলেন, “সব আসনে আমিই প্রার্থী। একবার মোদিকে সুযোগ দিয়ে দেখুন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বঙ্গ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে জোরকদমে প্রচারে নেমেছে বিজেপি। প্রায় প্রতিদিনই রাজ্যে সভা করছেন মোদি। তবে তাঁর এই বক্তব্য অনেকের মতে তাৎপর্যপূর্ণ—কারণ এতে সরাসরি বোঝানো হয়েছে, প্রার্থীর চেয়ে দল ও নেতৃত্বকেই প্রাধান্য দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, রাজ্যে বিজেপির সংগঠনগত দুর্বলতা ও প্রার্থী অসন্তোষের প্রেক্ষিতেই এই বার্তা। প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই একাধিক জায়গায় গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগ উঠেছে। সেই পরিস্থিতিতে ভোটারদের কাছে ‘মুখ নয়, প্রতীক’—এই বার্তা পৌঁছে দিতেই এমন মন্তব্য বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই বক্তব্যের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর প্রচারভঙ্গির। তিনিও বিভিন্ন সভায় বারবার বলেছেন, “২৯৪টি আসনে আমিই প্রার্থী।” উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে চতুর্থবার সরকার গঠনের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এই প্রেক্ষিতে মোদির বক্তব্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একদিকে কেন্দ্রের নেতৃত্বের উপর ভরসা, অন্যদিকে রাজ্যের উন্নয়ন মডেল—এই দুইয়ের লড়াইই এখন বাংলার ভোটে প্রধান ইস্যু হয়ে উঠছে।


সব মিলিয়ে, ভোটের আগে ‘একই সুরে’ দুই শিবিরের বার্তা—কার উপর আস্থা রাখবে বাংলা, সেটাই এখন দেখার।








