বাংলায় সফরের আগেই রাজনৈতিক সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার সন্ধ্যায় এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেস বাংলায় লুটপাট ও ভয় দেখানোর সব সীমা অতিক্রম করেছে। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতিতেই বাংলার মানুষের কাছে বিজেপির প্রতি নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে।
আগামী শনিবার রানাঘাটের তাহেরপুরে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। তার আগেই দেওয়া এই বার্তাকে রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। মোদি জানিয়েছেন, তাঁর সফরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে।


এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে এবং এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক তরজা চলছে। খসড়া ভোটার তালিকায় ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়ায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিরোধী শিবির।
এই আবহেই মতুয়াগড়ে সভা করছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের মতে, এসআইআর ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রশ্নগুলিই এই সভার অন্যতম প্রেক্ষাপট। বিজেপির অন্দরেও আশঙ্কা রয়েছে, মতুয়া সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।
শনিবারের সভায় মোদির সঙ্গে মঞ্চে থাকবেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী। জাতীয় সড়ক সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের প্রকল্পের সূচনা ও উদ্বোধন হবে এই সফরে।


প্রধানমন্ত্রীর সূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ তাঁর বিমান কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে তিনি রওনা দেবেন তাহেরপুরের উদ্দেশে। সকাল ১১টা ১৫ মিনিট নাগাদ নেতাজি পার্ক ময়দানের সভাস্থলে পৌঁছনোর কথা।
এই সফরে কৃষ্ণনগর থেকে বড়জাগুলি পর্যন্ত প্রায় ৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের চার লেনের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বারাসত থেকে বড়জাগুলি পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার অংশকে চার লেনে উন্নীত করার কাজের শিলান্যাসও হবে।
প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসপিজি-র পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের তরফেও বাড়তি নজরদারি থাকবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
সব মিলিয়ে, উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণার পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও যে এই সভার বড় অংশ হতে চলেছে, তা প্রধানমন্ত্রীর আগাম মন্তব্যেই স্পষ্ট বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



