উত্তরপ্রদেশের হাথরসে সিকান্দরারাউ এলাকায় একটি ‘সৎসঙ্গ’ অনুষ্ঠানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে শতাধিক মানুষের। এই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে যোগী রাজ্যের প্রশাসন। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় সৎসঙ্গের আয়োজক কমিটিকেই দায়ী করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এবার কেন্দ্র সরকারের তরফে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হল। মৃতের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আহতদের দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা।
হাথরসে যখন এই ঘটনা ঘটে তখন সংসদে বক্তব্য রাখছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ঘটনার খবর তার কাছে পৌঁছতেই কিছুক্ষণের জন্য ভাষণ থামিয়ে দেন তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন আর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই কেন্দ্র সরকারের তরফে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হল। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে এই টাকা দেওয়া হবে। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রমুখ।



জানা গিয়েছে, নারায়ণ সাকার ওরফে ‘ভোলে বাবা’ নামে স্বঘোষিত এক ধর্মীয় গুরুর জন্য ‘মানব মঙ্গল মিলন সদ্ভাবনা অনুষ্ঠান কমিটি’-এর তরফে এই সৎসঙ্গের আয়োজন করা হয়। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত চলে এই অনুষ্ঠান। অংশ নেন হাজার হাজার ভক্ত। যাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন মহিলা।
হাথরসে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু শতাধিকের, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করলেন মোদি
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আয়োজক কমিটির তরফে এত বড় অনুষ্ঠানের জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা করা হয়নি। সৎসঙ্গের জন্য যে প্যান্ডেল বাধা হয়, সেখানে পাখার ব্যবস্থা ছিল না। প্যান্ডেল ছিল পুরো চারিদিক ঢাকা ফলে গরমে সকলেই হাঁসফাঁস করছিলেন। মূল ঘটনা যদিও ঘটে গেটের কাছে। সেখানেও অভিযোগ, গেট এত সঙ্কীর্ণ ছিল যে বেরোনোর সময় হুড়োহুড়ি লেগে যায়। সেখানেই পরে যান অনেকে, তাঁদের ওপর দিয়ে মাড়িয়ে বেরোতে থাকেন বাকিরা।



উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে, এই ঘটনায় ১১৬ জন মানুষ মারা গিয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই মহিলা। কয়েকজন শিশুরও মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। আহতদের ইটাওয়া হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। স্বজনহারার বেদনায় ভেঙে পড়েছে শত শত পরিবার।







