২৫ বছর পূর্তিতে মোদির বার্তা, ২০৪৭-এর মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্য

সরকারি নেতৃত্বে ২৫ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে নিজের রাজনৈতিক যাত্রার কথা স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে ২০৪৭-এর মধ্যে উন্নত ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ার লক্ষ্যও তুলে ধরলেন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সরকারের শীর্ষপদে ২৫ বছর পূর্ণ করলেন নরেন্দ্র মোদি। এই মাইলফলক উপলক্ষে দিল্লিতে আয়োজিত ‘উন্নত ভারত সংকল্প সভা’ থেকে আগামী ভারতের লক্ষ্য তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেল ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার সংকল্প এবং আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য পূরণ করা হবে। আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যও অর্জনের বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, “উই উইল ডু ইট”—অর্থাৎ, “আমরা এটা করে দেখাব।” তাঁর বক্তব্যে বিকশিত ভারত গড়ার পাশাপাশি মহাকাশ গবেষণা, প্রতিরক্ষা এবং সেমিকন্ডাক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের কথাও উঠে আসে।

৭ অক্টোবর ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। এরপর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রায় ১৩ বছর এবং ২০১৪ সাল থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার ২৫ বছর পূর্ণ হল বুধবার।

অনুষ্ঠানে নিজের রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিনের কথা স্মরণ করে মোদি জানান, ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় তিনি কল্পনাও করেননি যে একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং টানা ২৫ বছর সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাইলফলকে পৌঁছবেন।

এই দীর্ঘ যাত্রার জন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে মানুষের আস্থা এবং সমর্থনের কথা।

নিজের ২৫ বছরের সরকারি জীবনের অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মোদি বলেন, তাঁর জীবনে কোনও ঘটনাই বৃথা যায়নি। যারা তাঁকে জয়ী করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে বিনয় শেখার কথা বলেন তিনি। আবার যারা তাঁকে হারিয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর শিক্ষা পেয়েছেন বলেও জানান।

শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে উৎসাহ দিয়েছেন, অন্যদিকে সমালোচকরা আত্মসমালোচনার সুযোগ করে দিয়েছেন—এমন কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিটি সংকট ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েছে এবং প্রতিটি সাফল্য দায়িত্ব আরও বাড়িয়েছে।

এই অভিজ্ঞতাগুলিই তাঁকে আরও বড় লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছে বলে জানান তিনি।

মোদির বক্তব্যে ২০৪৭ সাল একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হিসেবে উঠে এসেছে। ভারতের স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময় দেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চান তিনি। ‘বিকশিত ভারত’-এর এই লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এর আগেও একাধিকবার অর্থনীতি, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো, বিজ্ঞান ও নাগরিক অংশগ্রহণের উপর জোর দিয়েছেন।

এদিনও তাঁর বক্তব্যে সেই দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যই সামনে আসে। আত্মনির্ভর ভারতকে এই বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করে তিনি জানান, দেশকে নিজেদের প্রযুক্তি, উৎপাদন ক্ষমতা ও কৌশলগত সক্ষমতার দিক থেকে আরও শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

আগামী ভারতের প্রসঙ্গ বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলেননি। মহাকাশ গবেষণা, প্রতিরক্ষা এবং সেমিকন্ডাক্টরের মতো কৌশলগত ও প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেত্রগুলিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন।

আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর তাঁর জোর নতুন নয়। ২০৪৭-এর ‘বিকশিত ভারত’ ভাবনায় প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও দেশীয় উৎপাদনকে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে সরকারের বিভিন্ন বক্তব্যেও।

২৫ বছরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যাত্রার মাইলফলকে দাঁড়িয়ে তাই মোদির বার্তা শুধু অতীতের মূল্যায়নে আটকে থাকেনি। বরং আগামী দুই দশকেরও বেশি সময়ের জন্য ভারতের সামনে একটি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী—২০৪৭-এর মধ্যে বিকশিত এবং আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন