যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির উপস্থিতিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা নিয়ে এ বার সরব হলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তাঁর বক্তব্য, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় শুধু আয়োজকদের নয়, সমানভাবে দায়ী পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতাও। কার্যত এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য প্রশাসনকে নিশানা করেছেন তিনি।
রাজ্যপাল জানান, অনুষ্ঠানের আগে থেকেই বিপুল ভিড় এবং নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত পরিকল্পনা ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনিক গাফিলতির কারণেই শহরকে এক ‘কালো দিনের’ সাক্ষী হতে হয়েছে।


শনিবার যুবভারতীতে হাজির হয়েছিলেন হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী। কিন্তু মাঠে মেসি যতক্ষণ ছিলেন, তার বেশির ভাগ সময়ই তিনি ছিলেন ভিআইপি, আয়োজক ও নিরাপত্তারক্ষীদের ঘেরাটোপে। গ্যালারিতে বসে থাকা দর্শকরা কার্যত তাঁকে দেখতে পাননি। সেই বঞ্চনা থেকেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বলে মত অনেকের।

রাজ্যপালের পর্যবেক্ষণ, মেসির মতো আন্তর্জাতিক তারকার জন্য অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে একের পর এক কর্মসূচি সাজানো হয়েছিল। মূর্তি উন্মোচন থেকে শুরু করে হোটেল বৈঠক, মাঠে অনুষ্ঠান, স্পনসর ও ভিআইপিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ— সব মিলিয়ে সময়সূচি ছিল বাস্তবতার বাইরে। এর ফলেই বিশৃঙ্খলা আরও বেড়েছে।


বিবৃতিতে রাজ্যপাল স্পষ্টভাবে বলেন, পুরো আয়োজনের দায়িত্ব ছিল একটি বেসরকারি সংস্থার হাতে। তাই ক্ষয়ক্ষতির দায়ও তাদেরই নিতে হবে। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। লোকভবনের দাবি, অনুষ্ঠানের আগের দিনই একাধিক অভিযোগ পুলিশকে জানানো হয়েছিল, কিন্তু তার পরেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচারবিভাগীয় তদন্ত, স্টেডিয়ামের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ আয়োজকদের জরিমানা, দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং দর্শকদের সম্পূর্ণ টিকিটের টাকা ফেরত— এই চারটি দাবি তুলে ধরেছেন রাজ্যপাল। একই সঙ্গে মূল উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে আটক করা হয়েছে এবং দর্শকদের টাকা ফেরত দেওয়ার মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীও তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— এত বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা কীভাবে এতটা বড় সংকট ডেকে আনল?







