নজরবন্দি ব্যুরোঃ ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ যুদ্ধে প্রয়াত সেনাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে দিল্লিতে ইন্ডিয়া গেটের সামনে অমর জওয়ান জ্যোতির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। কিন্তু সেই অমর জওয়ান জ্যোতির শিখাকে ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালের শিখার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র সরকার। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন একাধিক মহল।
আরও পড়ুনঃ Inheritance law: পিতার মৃত্যুর পর তাঁর অর্জিত সম্পত্তি পাবেন কন্যা, রায় সুপ্রিম কোর্টের


কেন জাতীয় জ্যোতি স্মারকের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে জলন্ত শিখা? প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিরোধীরা। কেন্দ্রের ব্যখা, অনেক কিছু ভুল তথ্য পরিবেষণা করা হচ্ছে। অমর জাওয়ান জ্যোতি জওয়ান নিভছে না। মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে জাতীয় যুদ্ধ স্মারকের সঙ্গে। শুধুমাত্র নাম না থাকার কারণেই কী বদলে দেওয়া হল অমর জওয়ান জ্যোতির শিখা? প্রশ্ন তুলছেন বিরোধী দলের নেতারা।
কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী টুইটারে লেখেন, বীর জওয়ানদের স্মৃতিতে প্রজ্জ্বলিত অমর জওয়া জ্যোতির অগ্নিশিখা আজ নিভিয়ে দেওয়া হবে। তা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। কিছু মানুষ দেশপ্রেম এবং আত্মবলিদানের মাহাত্ম্য বোঝেন না। কোনও সমস্যা নেই। অমর সেনার স্মৃতিতে ফের অমর জওয়ান জ্যোতি প্রজ্জ্বলিত করব আমরা।
সিপি(আই)এম নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, দেশের প্রধানমন্ত্রী যদি এত অপদার্থতার অংশীদার হন, তাহলে তা সত্যিই বিপজ্জনক। কেন সরাতে হবে? দেশরক্ষার বাহিনীর বীরত্বের গাঁথা আমাদের কাছে গর্বের। পরিষ্কার যে প্রধানমন্ত্রীর না আছে দেশপ্রেমিক মনোভাব না আছে পরম্পরার বোধ।


কেন্দ্রের তরফে আরও বলা হয়েছে, অমর জওয়ান জ্যোতি বাংলাদেশের সেনাদের উদ্দেশ্যে হলেও সেখানে কোথাও সেনাদের নাম উল্লেখিত নেই। ইন্ডিয়া গেটে খোদাই করা সেনাদের মধ্যে কেউই এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। বরং অনেকেরই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন মৃত্যু হয়েছে। বিরোধীদের কাছে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে কেন্দ্র। কেন্দ্রের প্রশ্ন, কী করে বাংলাদেশ স্বাধীনতা এবং ভারতীয় সেনার তৎপরবর্তী যুদ্ধ বা অভিযানে আত্মবলিদান দেওয়া সেনাদের স্মৃতির উদ্দেশে অমর জওয়ান জ্যোতির মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা যায়?
নিভছে না, সংযুক্তিকরণ হচ্ছে, জানালো কেন্দ্র

স্বাধীনতার পরবর্তী পর্যায়ে শহীদ ভারতীয় সেনাদের শ্রদ্ধা জানাতে ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেন জাতীয় যুদ্ধ স্মারক। সেখানে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান, চিন এবং শ্রীলঙ্কার যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাঁদের নাম গ্রানাইট পাথরের ওপর খদাই করা হয়। স্থান পায় ৭১ এর যুদ্ধে শহীদ সেনারাও। কেন্দ্রের প্রশ্ন, স্বাধীনতা পরবর্তীতে আত্মবলিদান দেওয়া সেনানীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে কেন কোনও উৎসাহ দেখাল না বিগত দিনের সরকার?







