মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। এবার ইরানের অন্যতম ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর মেহরাবাদে ভয়াবহ হামলার অভিযোগ উঠল আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বিমানবন্দরের ভেতরে জ্বলছে একাধিক বিমান এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী। এই হামলার পর ইরানের সামরিক অবকাঠামোর ওপর বড় ধাক্কা নেমে এসেছে কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও জানিয়েছে, তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরের কয়েকটি অংশে হামলা হয়েছে। শুক্রবারের স্যাটেলাইট ছবিতে বিমানবন্দরের রানওয়ে ও পার্কিং এলাকায় একাধিক বিমান দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতেই হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, তারা ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে “নতুন দফায় ব্যাপক বিমান হামলা” শুরু করেছে। এই ঘোষণার পরপরই মেহরাবাদ বিমানবন্দরে বিস্ফোরণের খবর সামনে আসে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ৪ মার্চও এই একই বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েল। সে সময় ইজরায়েলের দাবি ছিল, তাদের বিমান বাহিনীর জন্য সম্ভাব্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন প্রতিরক্ষা ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল। সেই হামলায় বিমানবন্দরের একটি হেলিকপ্টার তৈরির স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল বলে জানা যায়।


তবে শুক্রবার রাতের হামলায় বিমানবন্দরের ঠিক কোন কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এবারকার বোমাবর্ষণ আগের হামলার তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল এবং বিস্ফোরণের শব্দ বহু দূর থেকেও শোনা গিয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে সৌদি আরবও হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করেছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, একটি তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে আসা ছয়টি ড্রোন এবং একটি বিমানঘাঁটির দিকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে।


সৌদি সূত্রের দাবি, ড্রোনগুলো দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল মরুভূমি ‘এম্পটি কোয়ার্টার’ অঞ্চলে শনাক্ত করা হয় এবং সেখানেই তা ভূপাতিত করা হয়। ওই অঞ্চলে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্র শায়বাহ—যা এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার সংঘাত যদি আরও তীব্র হয়, তবে তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।



