টিকিট প্রায় ‘নিশ্চিত’ জেনেই কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন মৌসমের, প্রভাব পড়বে না বলছে তৃণমূল

মালদহের খান পরিবারে দীর্ঘদিনের বিভাজন মিটিয়ে কংগ্রেসে ফিরলেন মৌসম বেনজির নূর। বিধানসভা ভোটের মুখে এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে—তা নিয়েই জল্পনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মালদহের রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে খান পরিবার। প্রয়াত বরকত গনি খান চৌধুরীর দুই ভাই—আবু হাসেম খান চৌধুরী (ডালু) ও আবু নাসের খান চৌধুরী (লেবু)—দু’জনেই অসুস্থ ও শয্যাশায়ী। সেই প্রেক্ষিতেই একসময়ের ‘গনি-গড়’ মালদহে কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভার কার্যত এসে পড়েছে ডালুপুত্র Isha Khan Choudhury-এর কাঁধে। গত লোকসভা নির্বাচনে মালদহ দক্ষিণ থেকে জিতে সাংসদ হয়েছেন তিনি।

এই আবহেই শনিবার দিল্লির আকবর রোডে কংগ্রেস দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ঘর-ওয়াপসি’ করলেন গনি খানের ভাগনি Mausam Benazir Noor। এক সময় কোতোয়ালি প্রাসাদের একাংশে তৃণমূলের পতাকা তুলে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন তিনি। তবে দলবদলের নেপথ্যে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও পারিবারিক সমীকরণ—দুটোই কাজ করেছে বলেই জেলার রাজনীতির খবর।

কেন এই মুহূর্তে কংগ্রেসে ফেরা

জেলা সূত্রের দাবি, আগামী এপ্রিলে রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হলে তৃণমূলের টিকিট পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল মৌসমের। তার উপর জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে ‘ছোট ছোট’ ইস্যুতে দূরত্ব বাড়ছিল। গত লোকসভা ভোটে দাদা ইশার হয়ে প্রচারে নামায় দলের অস্বস্তিও তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে বিধানসভা ভোটের মুখে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান মৌসম। কংগ্রেসের টিকিট ‘প্রায় নিশ্চিত’ বুঝেই তাঁর প্রত্যাবর্তন—এমনটাই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

২০১৯ সালের পর প্রায় সাত বছর কোতোয়ালি প্রাসাদে দুই শিবিরের টানাপোড়েন চলেছে। সেই বিভাজন মিটিয়ে পরিবারকে একত্র করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন ওয়াকিবহালরা।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: প্রভাব পড়বে না

তৃণমূল শিবিরে এই দলবদলকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন না নেতৃত্ব। জেলা যুব সভাপতি প্রসেনজিৎ দাসের মন্তব্য, মৌসম আগে কংগ্রেসেই ছিলেন, তৃণমূল তাঁকে রাজ্যসভা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে। জেলা চেয়ারম্যান চৈতালি সরকার বলেন, “কেন তিনি দল ছাড়লেন বুঝতে পারছি না। তবে জেলার রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়বে কি না, সময়ই বলবে।”

ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর কটাক্ষ, “রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে তাঁর কাজ চোখে পড়েনি। কংগ্রেসের টিকিটের আশাতেই দলবদল। এতে তৃণমূলের ক্ষতি হবে না।”

বিরোধীদের সুর ও ভবিষ্যৎ অঙ্ক

বিজেপি নেতা বিশ্বজিৎ রায়ের দাবি, তৃণমূল সম্মান দিতে জানে না বলেই এই ভাঙন। অন্যদিকে, সাংসদ ইশা খান চৌধুরীর বক্তব্য—মৌসম কংগ্রেসে ফেরায় কোতোয়ালি প্রাসাদে আর বিভেদ থাকবে না।

সব মিলিয়ে, মালদহে গনি খানের উত্তরাধিকার প্রশ্নে ফাঁকা মাঠ নেই। মৌসমের প্রত্যাবর্তন সেই অঙ্কে নতুন মাত্রা যোগ করল। বিধানসভা ভোটের আগে এই সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, সেটাই এখন জেলার রাজনীতির বড় প্রশ্ন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত