নজরবন্দি ব্যুরো: রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে তোলপাড় বাংলা! দুর্নীতির দায়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমান। শুধু তাই নয়, দুর্নীতি মামলায় রহস্য সমাধানে মন্ত্রী ঘনিষ্টদের তলব করছে কেন্দ্রীয় এজেন্সির গোয়েন্দারা। এই তালিকায় নাম জড়িয়েছে বালুর আপ্তসহায়কদেরও। যার দরুন একাধিকবার বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের প্রাক্তন আপ্তসহায়ক অভিজাৎ দাস ও বর্তমান আপ্ত-সহায়ক অমিত দে কেও তলব করেছিল ইডি।
আরও পড়ুন: মন্ত্রীর ইচ্ছেতেই প্রাক্তন আপ্তসহায়কের মা-স্ত্রীকে ডিরেক্টর পদে বসানো হয়েছিল, জানালেন অভিজিৎ
এহেন পরিস্থিতিতে রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে ইডির আধিকারিকদের কাছে। ইতিমধ্যেই বিস্ফোরক দাবি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির গোয়েন্দাদের দাবি, একটি নয় রাজ্য জুড়ে নাকি ১২ হাজার বাকিবুর থাকতে পারে। শুধু তাই নয়, ইডি আরও জানিয়েছে যে, ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রাজ্যের ১২ হাজারেরও বেশি ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, রেশন দোকানের মালিকের নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছিল। আর এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, এই রেশন দুর্নীতির আসল মাস্টারমাইন্ড মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক নিজেই। পাশাপাশি ইডির দাবি, রাজ্যে যে পরিমাণের দুর্নীতি করা হয়েছে, তা খাদ্য দফতরের মদত ছাড়া করা অসম্ভব। তাই এই দুর্নীতির পিছনে রয়েছেন মন্ত্রী নিজেই। এমনকি সল্টলেকের একটি বাড়িতে জ্যোতিপ্রিয় ও বাকিবুরের বৈঠক হত। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কনভয় আসত ওই বাড়িতে।

রেশন দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড জ্যোতিপ্রিয় নিজেই, দাবি ইডির
অন্যদিকে, রেশন দুর্নীতিতে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন জেলায় বাকিবুর ঘনিষ্ঠ গমকল ও চালকল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্যাকেজিং সংস্থার ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট যোগও সামনে এসেছে। যার দরুন আরও তথ্য জানতেও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে জেরা করছে ইডি। এদিকে, ওই জেলার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে আরও একটি ডায়েরি। আর সেই ডায়েরিতেই রয়েছে চোরাপথে চাল, আটার মতো কত পরিমাণ রেশন দ্রব্য কত টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে, সেসব হিসাব রয়েছে। শুধু তাই নয়,কোন কোন ব্যবসায়ীর কাছে ওই আটা ও চাল পাঠানো হয়েছে, তা-ও জানানো হয়েছে। ডায়েরিতে ওই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে টাকার লেনদেনেরও হিসাব রয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই ডায়েরির ভিত্তিতেই ইডি বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর তালিকা তৈরি করেছে। তাঁদের কাছ থেকে আরও তথ্য জানার চেষ্টায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় এজেন্সির গোয়েন্দারা।




