নজরবন্দি ব্যুরোঃ শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতিতে প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এখন কারাবাসে। তিনি অবশ্য ইডির মামলায় জেলবন্দি। সিবিআই হেফাজতে প্রাক্তন উপদেষ্টা কমিটির দুই সদস্য শান্তিপ্রসাদ সিনহা ও অশোক সাহা। কিন্তু মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতিতে মাত্র তিন জন কেন গ্রেফতার? সিবিআইয়ের ওপর আস্থা রেখেও তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন চাকরি প্রত্যাশীরা।
আরও পড়ুনঃ Anubrata Mondal: টেন্ডার পাইয়ে দিতে চেয়েছিলেন ১০ কোটি টাকা, অনুব্রতর পর্দাফাঁস


তাঁদের বক্তব্য, এই গোটা দুর্নীতির বীজ বপন হয়েছিল স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমিত্র সরকারের সময়েই। শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগের দুর্নীতির চরম শিখরে পৌঁছেছিল তখনই। তাঁর বিরুদ্ধেই এসএসসিতে বেআইনি ভাবে নিয়োগের শূন্য পদ তৈরির অভিযোগ রয়েছে। ২২ জুলাই তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল ইডি।
চাকরী প্রার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগ দুর্নীতিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, পরেশ অধিকারী, শান্তিপ্রসাদ সিনহা, অশোক সাহা, কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়দের নিয়ে আলোচনা হলেও সেভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সৌমিত্র সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

অথচ স্কুল সার্ভিস কমিশনের গ্রুপ সি পদে নিয়োগ নিয়ে উপদেষ্টা কমিটির ৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। শান্তিপ্রসাদ সিনহা, সমরজিত্ আচার্য-সহ ৫ জনের। এঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০(বি), ৪১৭, ৪৬৫ এবং ৩৪ নম্বর ধারায় মামলা। জামিন অযোগ্য ৪৬৮ নম্বর ধারাতেও মামলা দায়ের করা হয়েছে।


এমনিতেই প্রাক্তন উপদেষ্টা কমিটির সদস্যদের সম্পত্তির ওপরে নজর ছিল সিবিআইয়ের। কিন্তু পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ ৫০ কোটি নগদ টাকা সহ একাধিক বেনামি সম্পত্তির হদিশ মিলতেই এখন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ওপরেই বিশেষ নজর দিয়েছেন ইডি আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, আগামী দিনে কয়েকটি দলে ভাগ হয়েই অভিযানে নামতে চায় ইডি।

ইডি সূত্রে খবর, এই মুহুর্তে সম্পত্তির বৃদ্ধির মামলায় ইডিকে পার্টি করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। সেখানেই নাম জড়িয়েছে ১৯ জন তৃণমূল নেতা মন্ত্রীদের। তেমনই নজরে রয়েছে আরও কয়েকজন বিধায়ক। কাদের লেটারপ্যাডের মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশ যেত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে? নামের তালিকা কারা পাঠাতেন? টাকা তোলা হত কাদের মাধ্যমে? সবটা খুঁজে বের করছে তদন্তকারী সংস্থা।
মাত্র তিন জন কেন গ্রেফতার? নজরে রয়েছেন আর কারা?

সিবিআই সূত্রে খবর, একাধিক মামলায় তাঁরা ব্যস্ত থাকার দরুন শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সেভাবে তদন্তে অগ্রগতি হুয়নি। সম্প্রতি মুখবন্ধ খামে প্রাথমিক নিয়োগ নিয়ে রিপোর্ট জমা করেছে সিবিআই। খুব শীঘ্রই বহু নেতাদের তলব করা হতে পারে। এমন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।







