নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভুয়ো ডাক্তার, আইএস, আইপিএসের পর ভুয়ো শিক্ষক। TET পাশ না করেই চাকরি করছেন বহাল তবিয়তে ৫ বছর ধরে। ঘটনার বহর দেখে হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চ ২০১৬-র পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে জনস্বার্থ মামলা শুরুর সুপারিশ করেন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে। সেইমত দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলা। হাইকোর্টে রাজ্যকে নির্দেশ দেয় নিয়োগ সংক্রান্ত সব নথি জমা করতে। এরপর চলে মামলা, হয় তদন্ত।
আরও পড়ুনঃ কেন নিষিদ্ধ কেরালা স্টোরি? রাজ্যের কাছে জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট


আর আজ ৩৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের। এঁরা সকলেই অপ্রশিক্ষিত। বিচারপতির রায়, আগামী চার মাস তাঁরা স্কুলে যেতে পারবেন। বেতন পাবেন প্যারা টিচার হিসাবে। হাই কোর্টের রায়, রাজ্যকে এই তিন মাসের মধ্যে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে শেষ করতে হবে। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় আজও টেনে আনেন মানিক ভট্টাচার্যের প্রসঙ্গ।

বিচারপতি বলেন, যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাঁরা ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকলে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাঁরাও অংশ নিতে পারবেন। আর এই নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার খরচ দিতে অসমর্থ হলে, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ প্রয়োজনে বোর্ডের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যর কাছ থেকে টাকা নিতে পারে। কারণ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ২০১৪ সালের টেট থেকে শিক্ষক নিয়োগের নেপথ্যে দুর্নীতিতে রয়েছেন তৎকালীন বোর্ড সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য। টাকা নিয়ে নিয়োগের মূল মাস্টারমাইন্ড ছিলেন তিনিই।



উল্লেখ্য, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় প্যানেল বাতিল করে ‘ঢাকি সমেত বিসর্জন’-এর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, ২০১৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুরো প্যানেল বাতিল করে দেবেন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘আমি ঢাকি সমেত বিসর্জন দিয়ে দেব।’’
দুর্নীতির মূল মাস্টারমাইন্ড মানিক, নয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ার খরচ দেবেন তৃণমূল বিধায়ক

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ, যাঁদের চাকরি বাতিল হল তাঁদের সামনে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ রয়েছে এখনও। বিচারপতি জানিয়েছেন, বাতিল হওয়া শিক্ষকরা আগামী ৪ মাস কাজ করবেন, পার্শ্বশিক্ষকদের হারে বেতন পাবেন। তারই মধ্যে আগামী ৩ মাসের মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন করে নিয়োগ করতে হবে। সেক্ষেত্রে বাতিল হওয়া শিক্ষকরাও নতুন করে আবেদন করতে পারবেন প্রাথমিক শিক্ষক পদে এবং তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।







