শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২৫,৭৫৩ জনের চাকরি বাতিল করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। সোমবার বিচারপতি দেবাশিস বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শাব্বার রশিদির বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে। রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই রায় বেআইনি, আমরা সুপ্রিম কোর্টে যাব, চাকরিহারারা চিন্তা করবেন না।” মঙ্গলবার ভাতারের জনসভা থেকে ফের একবার এই রায় নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
আরও পড়ুন: আর মাত্র ৩ দিন পর বালুরঘাটে ভোট, নিজের গড়ে মেগা রোড-শো সুকান্তের
আদালতের রায়ে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা চাকরি হারিয়েছেন। যা নিয়ে শুরু হয়ে হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিচারব্যবস্থার দিকেই আঙুল তুলেছেন। বিজেপির প্রভাবেই এই রায় দেওয়া হয়েছে ভোটের মধ্যে, এমন গুরুতর অভিযোগও এনেছেন তিনি। আজ লোকসভা ভোটের প্রচার থেকে বিস্ফোরক ভাষণ রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “আপনারা ২৫ হাজার ছেলেমেয়ের চাকরি খেয়ে নিলেন। এবার স্কুলে স্কুলে বাচ্চাদের কে পড়াবে? বিজেপির নেতারা নাকি আরএসএস? পুরো সিস্টেমটাকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে ফেলেছে। আজ আপনাদের হাতে ক্ষমতা রয়েছে তাই অপপ্রয়োগ করছেন। আগামীতে কী হবে? বিজেপি ২০০ আসনও পাবে না। আমি বলছি।”

এবার স্কুলে-স্কুলে কে পড়াবে? BJP নাকি RSS? ২৫ হাজার চাকরি বাতিল প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী
একই সঙ্গে নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “কে একজন বোমা-টোমা ফাটানোর কথা বলছে। আমি ও অভিষেক টার্গেট। এরা আমাদের জীবন পর্যন্ত নিয়ে নিতে পারে। পুলওয়ামার মতো চক্রান্ত করে। আমি তাঁর নাম নিতে চাই না। সেই গদ্দারটা পুরুলিয়ায় কার কাছে চাকরি বিক্রি করেছিল? বলব আমি নাম? না থাক! আপনারা বুঝেই নেবেন।”

এদিকে, রায় ঘোষণার পরদিনই দলে দলে চাকরিচ্যুতরা ভিড় জমিয়েছেন ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে। তাঁদের সাফ প্রশ্ন, “সিবিআই-এর মতো সংস্থা যদি এতদিন ধরে তদন্ত করে যোগ্য অযোগ্য বাছতে অপারগ হয় তাহলে কি করে হবে?” আগামীদিনে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন।



