‘গণতন্ত্র-ন্যায়ের লড়াইয়ে শহিদরাই আমাদের প্রেরণা’, একুশে জুলাইয়ে আবেগঘন বার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

দুই তৃণমূলের পৃথক সমাবেশ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই ২১ জুলাই শহিদদের স্মরণ করে এক্স-এ আবেগঘন বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের লড়াই অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানালেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতা: ২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, দুই তৃণমূলের পৃথক সমাবেশ এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই শহিদদের স্মরণ করে আবেগঘন বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার সকালে নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তিনি ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান তৃণমূল নেত্রী।

এক্স-এ করা পোস্টে মমতা লেখেন, “একুশে জুলাই শহিদ দিবসে, ১৯৯৩ সালের এই দিনে যাঁরা মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন, সেই শহিদদের প্রতি আমি জানাই আমার হৃদয়ের গভীরতম শ্রদ্ধা।” শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে তিনি তাঁদের অবদানকে দলের আন্দোলনের চিরন্তন প্রেরণা বলেও উল্লেখ করেন।

শুধু শ্রদ্ধা জ্ঞাপনেই থেমে থাকেননি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বার্তায় উঠে এসেছে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার অঙ্গীকারও। মমতা লেখেন, ‘মা-মাটি-মানুষ’ পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সংকল্প আরও দৃঢ় হোক, যাতে তাঁরা সর্বদা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় অবিচল থাকেন। তাঁর দাবি, শহিদদের আত্মত্যাগ আগামীদিনেও আন্দোলনের পথ দেখাবে।

এবারের ২১ জুলাই অবশ্য অতীতের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক আবহে পালিত হচ্ছে। ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রথমবার ধর্মতলায় একক সমাবেশের পরিবর্তে কলকাতায় দু’টি পৃথক তৃণমূল শিবিরের কর্মসূচি হচ্ছে। ক্যাথিড্রাল রোডে (Cathedral Road) বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে মমতা শিবিরের সভা, আর মেয়ো রোডে (Mayo Road) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)-এর নেতৃত্বাধীন শিবিরের পৃথক সমাবেশ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।

সমাবেশের আগের রাতেই ক্যাথিড্রাল রোডের সভাস্থলে ভাঙচুর, ব্যানার ছেঁড়া এবং কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ তোলে মমতা শিবির। অভিযোগের খবর পেয়ে সোমবার গভীর রাতে সভাস্থলে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দোলা সেন (Dola Sen), কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)-সহ একাধিক নেতা। রাতভর পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার পর মঙ্গলবার সকালে তাঁরা সভাস্থল ছাড়েন।

অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের পৃথক কর্মসূচি এবং দুই পক্ষের রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের আবহে মমতার এই এক্স পোস্ট বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যেও শহিদদের স্মরণ এবং গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে তিনি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।

সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক সংঘর্ষের আবহে ২১ জুলাইয়ের সকালে মমতার এই আবেগঘন বার্তা দিনটির রাজনৈতিক তাৎপর্যকে আরও বাড়িয়ে দিল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন