নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে বাংলার রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে। সেই আবহেই ভোটের আগে পরিকল্পিত ভাবে অশান্ত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নবান্ন থেকে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে শান্তি ও সংযম বজায় রাখার স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “কেউ কেউ ভোটের স্বার্থে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু আমাদের রাজ্যে শান্তি বজায় রাখতে হবে ৩৬৫ দিন।”
এদিন নবান্ন থেকেই ওয়াটগঞ্জের দইঘাটে নতুন শ্মশানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নবরূপে নির্মিত সিরিটি মহাশ্মশানের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অশান্তির আশঙ্কার কথা তোলেন তিনি।


আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বাংলায় নির্বাচন। তার আগেই কোনও প্ররোচনায় পা না দিতে রাজ্যবাসীকে সতর্ক করে দেন প্রশাসনিক প্রধান। বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজ্যে বহু সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন। সামান্য উসকানিতে ঝামেলা বা অবরোধের পরিস্থিতি তৈরি হলে সাধারণ মানুষেরই ক্ষতি হয়—এমন পরিস্থিতি তিনি কোনও ভাবেই চান না। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, “আমি চাই সবাই মিলেমিশে থাকুক।”
এই প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ভোটের আগে ইচ্ছাকৃত ভাবে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। যদিও এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কোনও নাম করেননি। তবে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট—“এই বাংলা সবার।”
অন্য দিকে, ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হেনস্তার অভিযোগেও ফের সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলায় প্রায় দেড় কোটি ভিনরাজ্যের শ্রমিক কাজ করেন এবং এ রাজ্যে তাঁদের সঙ্গে কোনও বৈষম্য করা হয় না। কিন্তু বাংলার শ্রমিকরা বাইরে কাজে গেলে অনেক জায়গায় নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।


এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশে ফের বার্তা দেন—যাঁরা ভিনরাজ্যে সমস্যার মুখে পড়ছেন, তাঁরা চাইলে বাংলায় ফিরে আসতে পারেন। রাজ্য সরকার তাঁদের কাজের সুযোগ করে দেওয়ার দায়িত্ব নেবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখাই যে রাজ্য প্রশাসনের মূল লক্ষ্য, নবান্নের মঞ্চ থেকে সেই বার্তাই আবার স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।








