নজরবন্দি ব্যুরোঃ গতকাল কেন্দ্রীয় বাজেটে ট্যাক্স স্ল্যাব নিয়ে বিশেষ ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বাজেটে বিশেষ করছাড় নিয়ে বড় ঘোষণার পর কেন্দ্র সরকারকে কটাক্ষ করতে পিছপা হয়নি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বৃহস্পতিবার বর্ধমানের একটি সভা থেকে কেন্দ্রের আয়কর ছাড় নিয়ে বিষদে বিবরণ দিয়ে আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, দুই বাড়িয়েছে, আড়াই কেটেছে।
আরও পড়ুনঃ Paresh Rawal: মাছ ও বাঙালি বিতর্কে এবার হাই কোর্টের দারস্থ পরেশ রাওয়াল


মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মাছের তেলে মাছ ভেজেছে। কথার কারসাজি এবং লোভ দেখিয়েছে। আসলে কিন্তু কিছু নয়। মিথ্যে স্বপ্ন দেখিয়েছে। আপনার রোজগার আরও ঝরঝরে করে দিয়েছে। ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকার আয়করে বিশেষ ছাড় দিয়ে ২ বাড়িয়েছে এবং আড়াই কেটেছে। ভাবছে চালাকি দিয়ে সব কিছু হয়। কেউ না কেউ তো ধরবে। নতুন কর কাঠামো কতটা উপযোগী? বোঝাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “৮০ সি ধারায় এলআইসি পিপিএ এবং ট্যাক্স সেভিং মিউচুয়াল ফান্ড মিলিয়ে যে দেড় লক্ষ টাকা অবধি আপনারা ছাট পেতেন, নতুন পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে সেই দেড় লক্ষ টাকা আর আপনারা ছাড় পাবেন না”।
মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, মেডিকেল ইনসিউরেন্স পরিবারের জন্য বিশেষ ছাড় ৮০(ডি)ধারায় ৫০ হাজার টাকা অবধি পেতেন, নতুন কর কাঠামোর ক্ষেত্রে সেটাও পাবেন না। এছাড়াও ন্যাশনাল পেনশন যোজনা পেতেন ৫০ হাজার টাকা অবধি পেতেন, ভবিষ্যতের কথা ভেবে যে ছাড় পেতেন, সেই ছাড়ও আর পাবেন না। ৫ থেকে ৭ করলেও দিল ২, কাটল আড়াই। তাঁর মানে লাভ নাকি লোকসান হল।

কেন্দ্রের সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, এই সরকার বেশীদিন থাকলে সমস্ত ব্যাঙ্ক বন্ধ করে দেবে। এলআইসির শেয়ার যেভাবে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে, ব্যাঙ্কের শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এলআইসি এবং ব্যাঙ্কের শেয়ারের টাকা দিয়ে জনগণের টাকা দিয়ে পার্টি এবং পার্টির বিখ্যাত লোকদের বাড়ানো হচ্ছে, এর ফলে আগামী দিনে আপনার আমার ব্যাঙ্কের টাকা পাবেন কি না তা জানা নেই। জীবন বীমা করে রাখেন ভবিষ্যতের জন্য আপনারা আগামী দিনে পাবেন কি না জানেন না। চাকরি কোথা থেকে দেবে?


তিনি আরও বলেন, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়াবে বলছে। আরে বাংলাকে দেখো। আগে ছিল ১ লক্ষ এই দশ বছরে করেছি ১১ লক্ষ। আগামী দিনে এই ধরনের গ্রুপ আরও হবে। এমনটাই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমাকে ৫ বছর সময় দিলে আমি একাই করে দিচ্ছি। আসলে এগুলো রাজ্যগুল করে। যত ক্রেডিট নেবে আর সেন্ট্রাল টিম পাঠাবে।
দুই বাড়িয়েছে, আড়াই কেটেছে, কটাক্ষ মমতার

বামেদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে পিছপা হলেন না মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখানকার কিছু বাবুরা রয়েছেন, ক্ষমতায় ছিলেন, নিজেরা কি করেছেন সেটা বলতে গেলে লজ্জা পাবেন। কারণ জানতে পেরেছি পরে দুর্ভাগ্য এটাই আমাদের। তাঁরা বলছে ১০০ দিনের কাজে বাংলার টাকা দিও না। ১ লক্ষ কোটি টাকার ওপর আমরা কেন্দ্র সরকারের কাছে টাকা পাই সেটা দেওয়া হচ্ছে না।







