ভোটের আবহে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থেকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বার্তা স্পষ্ট—“এ বার বদলা হবে, গণতন্ত্রের বদলা, বাংলা-বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে বদলা।” নির্বাচনের আগে এই ভাষণ রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল।
মঞ্চ থেকে সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে মমতার অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দল ভাঙতে “১০০০ কোটি টাকার ডিল” করা হয়েছে। তিনি বলেন, “কত শাক দিয়ে মাছ ঢাকবেন? যাঁরা বলছেন ভিডিয়ো ভুয়ো, তাঁরাই আবার সেটাকে ঢাকার চেষ্টা করছেন।” একই সঙ্গে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রের নীতিরও সমালোচনা করেন তিনি।
শনিবার কাটোয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র সভার প্রসঙ্গ টেনে মমতা কটাক্ষ করেন, “সীতাভোগ, মিহিদানা বিদেশে রফতানির কথা বলা হচ্ছে। অথচ বাংলার মিষ্টির ঐতিহ্য নিয়ে আমরা বহু আগেই কাজ করেছি।” তিনি জানান, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ‘মিষ্টি হাব’ তৈরি হয়েছে এবং বিশ্ববাংলা ব্র্যান্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারেও পৌঁছেছে বাংলার পণ্য।
বিজেপির প্রতিশ্রুতিকে ‘মিথ্যাচার’ বলেও আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সপ্তম পে কমিশন প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, “আমরাই বাজেটে ঘোষণা করেছি। বাংলাতেই নিয়মিত পেনশন দেওয়া হয়।” পাশাপাশি কর্মসংস্থানের প্রশ্নে তাঁর দাবি, রাজ্যে ২ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং বেকারত্ব কমেছে।
কৃষিক্ষেত্র নিয়েও কেন্দ্রকে একহাত নেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, “আলুচাষিদের জন্য ফসল বীমা চালু করা হয়েছে, কৃষকবন্ধু প্রকল্পে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।” নতুন করে ক্ষেতমজুরদের জন্য আর্থিক সহায়তার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, একই দিনে একাধিক সভা করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। খণ্ডঘোষের পর তিনি যাচ্ছেন বাঁকুড়ার ওন্দা ও ছাতনায়—যেখানে আগের দিন সভা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ফলে রাজনৈতিক সংঘর্ষের আবহ আরও তীব্র হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে মমতার এই আক্রমণাত্মক সুর স্পষ্ট করে দিচ্ছে—বাংলার ময়দানে লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।



