নজরবন্দি ব্যুরোঃ বন্যায় দুয়ারে মমতা, কথা ছিল টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শনে যাবেন তিনি আজ। খতিয়ে দেখবেন পরিস্থিতি। একে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি, মুখ্যমন্ত্রী মনে করছেন তার ওপরে DVC থেকে অত্যাধিক জল ছাড়ার কারণেই বানভাসি বাংলা।
আরও পড়ুনঃ সভা কক্ষে হট্টগোল-বিধিভঙ্গ, একসঙ্গে সাসপেন্ড তৃণমূলের ৬ সাংসদ
টানা বৃষ্টির সপ্তাহ খানেক কেটে গেলেও হাওড়া-হুগলির একাধিক এলাকা এখন ডুবে জলের তলায়। জলের তলায় কমবশি ৮৫ টি গ্রাম। বন্যা পরিস্থিতিতে জলমঙ্গ এলাকায় বন্দী হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। তার মাঝেই গতকাল রাত থেকেই ফের শুরু হয়েছে অঝোর বর্ষন। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে রাজ্যের একাধিক জেলায়। তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে রাজ্যবাসী।

কথাছিল আজ ডোমজুর থেকে হেলিকপ্টারে চেপে খানাকুলে যাবেন মমতা। তবে শেষ মুহুর্তে বদলেছে রুটম্যাপ। ফের বৃষ্টি শুরু হওয়ায় খানাকুলের অস্থায়ী হেলিপ্যাডে জল জমে থাকায় পরিকল্পনা বাতিল করে ঠিক হয় সড়ক পথেই পরিদর্শন করবেন যতটা সম্ভব।

প্রথমেই তিনি যান আমতার শেহাগরি এলাকায়। আমতার ২ নম্বর ব্লকের ৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা পুরোপুরি প্লাবিত। আজ জল ঢুকছে আরও দুই এলাকায়। অবস্থা ভালো নয় উদয়নারায়ণ পুরেরও। সড়ক পথে আমতায় গিয়েই গাড়ি থেকে নেমে সোজা যান দুর্গতদের দরজায়। হাঁটু জল পেরিয়ে দুর্গতদের খোঁজ নিয়ে আসেন। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, পরিস্থিতি খারাপ, তবে সর্বত ভাবে পাশে আছে রাজ্য সরকার। আশ্বাস দেন ‘‘নিজেদেরই সাবধানে থাকতে হবে। প্রাণহানি যাতে না হয়, তা দেখতে হবে। মানুষকে সাহায্য করার জন্য বাকি যে সাহায্য দরকার, তা সরকার করবে।’’
রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে আজই মমতাকে ফোন করেছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী ন্রেন্দ্র মোদি। তাঁর উত্তরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েচেন এই বন্যা ম্যান মেইড। পলি পরিষ্কার করনা DVC। নষ্ট হচ্ছে নদীর নব্যতা। তার ওপরে ৫৪ হাজার কিউসেক জল ছাড়ার কথা বলে জল ছেড়েছে ২ লক্ষ কিউসেক। মমতার মতে সেই কারণেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জল একটু কমলে খানাকুলে যাওয়ার কথা জানান তিনি। আমতা থেকেই নবান্নতে ফিরছেন তিনি।



