বজ্রপাতে ১০ জনের মৃত্যু, কলকাতায় গাছ ভেঙে বিপর্যয়! ঝড়বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড একাধিক জেলা

ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতের জেরে পশ্চিমবঙ্গে ১০ জনের মৃত্যু। কলকাতায় গাছ ভেঙে যান চলাচল ব্যাহত, একাধিক জেলায় কমলা সতর্কতা জারি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মঙ্গলবার দুপুর থেকে ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতের তাণ্ডবে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল পশ্চিমবঙ্গ। কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের জেরে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কোচবিহার, মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও পুরুলিয়ায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে কলকাতায় একাধিক গাছ ভেঙে পড়ায় ব্যাপক যানজট এবং দুর্ভোগের মুখে পড়েন সাধারণ মানুষ।

মৌসম ভবনের পূর্বাভাস মেনেই মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন দেখা যায়। আকাশ কালো করে নামে প্রবল বৃষ্টি। সঙ্গে চলতে থাকে একের পর এক বজ্রপাত। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বজ্রপাতের ঘটনায়।

দুপুর ২টো নাগাদ কলকাতায় বৃষ্টি শুরু হয়। তার সঙ্গে ছিল তীব্র বজ্রপাত। ধর্মতলা, মৌলালি, হাই কোর্ট চত্বর-সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ে। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। স্কুল-কলেজ ছুটির সময় হওয়ায় সমস্যায় পড়েন পড়ুয়া, অভিভাবক এবং অফিসযাত্রীরা। (বজ্রপাত থেকে বাঁচার উপায়: প্রাণ রক্ষায় জেনে রাখুন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা নির্দেশিকা)

ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতে পশ্চিমবঙ্গে ১০ জনের মৃত্যু, গাছ ভেঙে লণ্ডভণ্ড কলকাতা
কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতের জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, প্রায় ১০ জনের প্রাণহানি

হাই কোর্টের পার্কিং এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক গাড়ির উপর গাছ ভেঙে পড়ে। ডাফরিন রোডে একটি অস্থায়ী মূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিদ্যুতের তারের উপর গাছ পড়ায় কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবাও বিঘ্নিত হয়। পুরসভার কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছ সরানোর কাজ শুরু করেন।

মৌলালিতে একটি বড় গাছ বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে একটি গাড়ির উপর পড়ে। ফলে রাস্তার একাংশ বন্ধ হয়ে যায়। দুই লেনের রাস্তা এক লেন দিয়ে চালু রাখতে হওয়ায় সেখানে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান এলাকায়। ধুলিয়ান গঙ্গাঘাট থেকে মালদহের পারলালপুর ঘাটে যাত্রীবাহী একটি নৌকা পৌঁছনোর পর আচমকা প্রবল বৃষ্টি এবং বজ্রপাত শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একাধিক যাত্রী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই চার জনের মৃত্যু হয়। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কোচবিহারের মাথাভাঙা শীতলকুচি ব্লকের সাটিমারি এলাকায় বজ্রপাতে প্রাণ হারান ৫৯ বছরের মেনকা বর্মণ। বৃষ্টির মধ্যে গরু আনতে গিয়ে তিনি বজ্রাঘাতে আক্রান্ত হন। অন্যদিকে সুটকাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ময়নাগুড়ি এলাকায় চাষের জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মৃত্যু হয় ২০ বছরের আরমান হোসেনের।

মালদহের বৈষ্ণবনগর এলাকায় পাটখেতে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। পুরুলিয়াতেও বজ্রপাতে দু’জনের প্রাণহানি হয়েছে। এছাড়া জয়পুর এবং বরাবাজার থানা এলাকার মোট আট জন আহত হয়েছেন। তাঁদের পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে পারে। এই জেলাগুলিতে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

একইসঙ্গে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ার কিছু অংশেও কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক ঘণ্টা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
(Orange Alert মানে কী? কমলা সতর্কতা জারি হলে কতটা বিপদ, কী করবেন সাধারণ মানুষ?)

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন