২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সমাবেশ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। সমাবেশ শুরুর আগের রাত থেকেই মঞ্চে উপস্থিত থেকে প্রস্তুতি তদারকি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শুধু রাতেই নয়, সোমবার সকালেও সভাস্থল ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে সমাবেশ ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। মঞ্চ ভাঙচুর, বিদ্যুৎ ও মাইকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা থেকে শুরু করে কর্মী-সমর্থকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
রবিবার সন্ধ্যায় প্রথমে বিড়লা তারামণ্ডল (Birla Planetarium)-এর সামনে সভার প্রস্তুতি পরিদর্শনে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে রাতে ফের সেখানে পৌঁছে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। অভিযোগ করেন, বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরা সভার প্রস্তুতিতে একাধিক বাধা সৃষ্টি করেছে এবং অনুষ্ঠান বানচালের উদ্দেশ্যে নাশকতার চেষ্টা চালানো হয়েছে।
তৃণমূল নেত্রীর দাবি, বিভিন্ন জায়গায় সভার মঞ্চ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও মাইকের লাইন কেটে দেওয়া, পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনাগুলির পিছনে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরা রয়েছে এবং গোটা ঘটনায় পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত মিলছে।
মমতা আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের সভায় যোগ দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি শহিদ পরিবারের সদস্যদেরও পুলিশ ভয় দেখিয়ে সমাবেশে না আসার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, শহিদদের স্মরণ করার কর্মসূচিকেও বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে।
রাতভর সভাস্থলেই ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee), কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) এবং কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। সোমবার সকালে অভিষেক বাড়ি ফিরে গেলেও মমতা কিছুক্ষণ আরও সভাস্থলে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
এরপর কর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ পেয়ে তিনি হেঁটে রবীন্দ্র সদন (Rabindra Sadan) মোড় পর্যন্ত যান এবং স্থানীয় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। পরে তিনি বাড়ি ফিরে যান। নির্ধারিত সময়ে মূল সমাবেশে তাঁর বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।
এদিকে সকালে সভামঞ্চে উপস্থিত হন দলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন (Derek O’Brien)। তবে সকাল পর্যন্ত কর্মী-সমর্থকদের ভিড় গত বছরের তুলনায় অনেকটাই কম ছিল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের পর্যবেক্ষণ। এখন নজর ২১ জুলাইয়ের দুই রাজনৈতিক শিবিরের শক্তিপ্রদর্শনের দিকে—একদিকে কালীঘাট শিবিরের সমাবেশ, অন্যদিকে মেয়ো রোড (Mayo Road)-এ ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের কর্মসূচি। দুই পক্ষের জমায়েতই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে।



