প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগে শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় মামলা রুজু ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় সিংহের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নির্বাচনী প্রচার এবং ইদের মঞ্চে দেওয়া কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্ক সামনে এসেছে।
গত ২০ মে শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় সিংহ। অভিযোগের ভিত্তিতে ২৫ মে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫১(১), ৩৫২ এবং ৩৫৩(২) ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই তিনটি ধারার মধ্যে ৩৫৩(২) হল জামিন অযোগ্য ধারা।


অভিযোগকারীর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন একাধিক সভা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত করেছিল। বিশেষ করে ২০২৫ সালে কলকাতার রেড রোডে ইদের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয় বলে অভিযোগ।
রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায়ের আরও দাবি, সেই সময় তিনি শিলিগুড়ির প্রধাননগর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তাঁর অভিযোগ নেয়নি। উল্টে তাঁকে অপমান করে থানা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “অভিযোগ জানাতে গিয়েও অপমানিত হতে হয়েছিল। সেই সময় কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
পরবর্তীতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধর্নামঞ্চ থেকে দেওয়া কিছু মন্তব্য নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। সরকার পরিবর্তনের পর ফের সেই প্রসঙ্গ সামনে এনে শিলিগুড়ি সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।


বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে পরাজিত হওয়ার পর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই আবহেই এই মামলা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এই ঘটনায় দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা আইনজীবী অত্রি শর্মার মন্তব্য ঘিরেও শুরু হয়েছে জল্পনা। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন কোনও মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের মন্তব্য করা উচিত হয়নি। দলের এক নেতার এই মন্তব্যে রাজনৈতিক অন্দরে অস্বস্তি বেড়েছে বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
অন্যদিকে, দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান সঞ্জয় টিব্রুওয়াল জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে আইন আইনের পথেই চলবে বলেই মন্তব্য করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও সাইবার থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণ নিয়েও তৎকালীন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। নতুন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা ঘিরে এবার ফের উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



