সপ্তম বেতন কমিশনে অনুমোদনের পর এবার নজর রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের দীর্ঘদিনের দাবি— বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ)। সেই জল্পনার মাঝেই জানা গেল, আগামী ৩০ মে সকাল সাড়ে ১০টায় ডিএ ইস্যুতে কর্মচারি সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকারের এই বৈঠককে ঘিরে কর্মচারি মহলে বাড়ছে প্রত্যাশা।
সরকার ইতিমধ্যেই সপ্তম পে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার দেড় সপ্তাহের মধ্যেই সেই প্রক্রিয়ায় অনুমোদন মেলে। তবে ডিএ নিয়ে তখন কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়নি। ফলে সরকারি কর্মচারিদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছিল— বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে সরকারের অবস্থান কী হতে চলেছে।


সূত্রের খবর, শনিবারের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারে একাধিক কর্মচারি সংগঠন। তালিকায় রয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, দ্য কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ (আইএনটিইউসি), ইউনিটি ফোরাম (অরাজনৈতিক) এবং সরকারি কর্মচারি পরিষদ। প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১২ জন হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সপ্তম বেতন কমিশনের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছিল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তবে তাদের বক্তব্য ছিল, শুধু কমিশন গঠন নয়— ডিএ নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তও প্রয়োজন। সেই কারণে এই বৈঠকের দিকে এখন নজর কর্মচারি মহলের।
আগের সরকারের আমলে ডিএ আন্দোলন দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যের অন্যতম বড় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছিল। বকেয়া ডিএ-র দাবিতে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ, অনশন— একাধিক কর্মসূচি দেখা গিয়েছিল। এর প্রভাব পড়েছিল প্রশাসনিক কাজেও।


আন্দোলনকারী কর্মচারিদের মূল দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারিদের মতো একই হারে ডিএ দিতে হবে এবং দীর্ঘদিনের ফারাক মেটাতে হবে। সংগঠনগুলির একাংশের দাবি, আদালত একাধিকবার ডিএ-কে কর্মচারিদের অধিকার হিসেবে উল্লেখ করলেও বাস্তবে সেই বাস্তবায়ন হয়নি।
এখন নতুন সরকারের প্রথম বড় পরীক্ষা হতে চলেছে এই বৈঠক। কর্মচারিদের দীর্ঘদিনের দাবিতে কোনও রূপরেখা বা সময়সীমা ঘোষণা হয় কি না— নজর থাকবে ৩০ মে-র বৈঠকের দিকে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



