মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস বা Trump Redistricting পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা খেল রিপাবলিকান শিবির। আলাবামা এবং সাউথ ক্যারোলিনায় নতুন নির্বাচনী মানচিত্র কার্যকর করার চেষ্টা আদালত এবং আইনসভা— দুই জায়গাতেই বাধার মুখে পড়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ঘটনা মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
মঙ্গলবার সাউথ ক্যারোলিনার সিনেটে কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য নিজেদের দলের বিরুদ্ধেই ভোট দেন। তাঁরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এমন একটি নতুন নির্বাচনী মানচিত্রের বিরোধিতা করেন, যা বহু বছরের ডেমোক্র্যাট সাংসদ জেমস ক্লাইবার্নের আসনকে ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ।
জেমস ক্লাইবার্ন মার্কিন কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী কৃষ্ণাঙ্গ ডেমোক্র্যাট নেতা। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ওই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। নতুন মানচিত্র কার্যকর হলে তাঁর রাজনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারত বলে মনে করা হচ্ছিল।
অন্যদিকে, আলাবামাতেও রিপাবলিকানদের পরিকল্পনায় বড় বাধা আসে আদালত থেকে। তিন বিচারপতির একটি ফেডারেল বেঞ্চ রিপাবলিকানদের প্রস্তাবিত নতুন মানচিত্রে স্থগিতাদেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচনী সীমানা নির্ধারণে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত বৈষম্য করা হয়েছে।
আলাবামার নতুন মানচিত্রে রাজ্যের দুটি কৃষ্ণাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলার মধ্যে একটি কার্যত ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। আদালত জানায়, এই পদক্ষেপ মার্কিন সংবিধান এবং ভোটাধিকার সংক্রান্ত আইনের পরিপন্থী হতে পারে।
সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের পর থেকেই দক্ষিণের একাধিক রিপাবলিকান শাসিত রাজ্যে নতুন নির্বাচনী মানচিত্র তৈরির প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হয়েছিল। ওই রায়ে কৃষ্ণাঙ্গ এবং লাতিনো অধ্যুষিত নির্বাচনী কেন্দ্রগুলির সুরক্ষা কিছুটা দুর্বল হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রিপাবলিকানরা আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে ডেমোক্র্যাট শিবির। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে এই পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে সাউথ ক্যারোলিনা এবং আলাবামার সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট, ট্রাম্পের সমর্থিত এই নির্বাচনী কৌশল সব জায়গায় সহজে কার্যকর করা যাচ্ছে না। আদালত এবং দলের ভিতর থেকেই যে বিরোধিতা তৈরি হচ্ছে, তা রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।



