কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-কে ঘিরে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। Nvidia, Microsoft, AMD কিংবা অন্যান্য AI-ভিত্তিক সংস্থার শেয়ার একের পর এক রেকর্ড গড়ছে। কিন্তু এই উত্থানের মাঝেই বিশেষজ্ঞদের একাংশ সতর্ক করছেন— AI শেয়ারে অন্ধভাবে বিনিয়োগ করলে বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে। বাজারে তৈরি হচ্ছে নতুন ‘বাবল’, এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেক বিশ্লেষক।
গত এক বছরে AI সংক্রান্ত কোম্পানিগুলির বাজারমূল্য বিস্ফোরক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে Nvidia-র মতো সংস্থাগুলি AI চিপের চাহিদা বাড়ায় অভাবনীয় মুনাফা করেছে। এর জেরে মার্কিন শেয়ার বাজারের S&P 500 এবং Nasdaq সূচকও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তবে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারের এই উচ্ছ্বাস বাস্তব ব্যবসায়িক ফলাফলের তুলনায় অনেক দ্রুত বাড়ছে। বহু সংস্থার আয় বা লাভের তুলনায় শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, AI প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিঃসন্দেহে উজ্জ্বল হলেও বর্তমানে অনেক বিনিয়োগকারী শুধুমাত্র ‘AI’ নাম শুনেই টাকা ঢালছেন। ফলে প্রকৃত মূল্যায়নের বদলে আবেগ এবং বাজারের হাইপ অনেক বেশি কাজ করছে।
এই পরিস্থিতিকে অনেকে ২০০০ সালের Dot-Com Bubble-এর সঙ্গে তুলনা করছেন। সেই সময়ও ইন্টারনেটভিত্তিক সংস্থাগুলির শেয়ার দ্রুত বাড়ছিল। কিন্তু পরে বাজার ভেঙে পড়ায় লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারী বড় ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন।
এখনও পর্যন্ত AI sector শক্ত অবস্থানে থাকলেও বাজারে কিছু সতর্কবার্তা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। মার্কিন Consumer Sentiment Index সম্প্রতি রেকর্ড নিম্নস্তরে নেমেছে। একইসঙ্গে বাড়ছে বন্ড ইল্ড এবং মূল্যস্ফীতির চাপ। এই পরিস্থিতিতে উচ্চমূল্যের টেক শেয়ারগুলি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, AI সংক্রান্ত প্রত্যেকটি কোম্পানিই দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে— এমন ধারণা ভুল। অনেক ছোট সংস্থা বর্তমানে AI-র নাম ব্যবহার করে বাজারে নিজেদের মূল্য বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ফলে বিনিয়োগের আগে কোম্পানির আয়, ব্যবসার মডেল এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভালোভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।
অনেক আর্থিক পরামর্শদাতা এখন বিনিয়োগকারীদের diversified portfolio বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। অর্থাৎ শুধুমাত্র AI শেয়ারে টাকা না রেখে Finance, Healthcare, Energy বা Value Stocks-এও কিছু বিনিয়োগ রাখার কথা বলা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে correction এলে সবচেয়ে আগে ধাক্কা খেতে পারে অতিরিক্ত দামে পৌঁছে যাওয়া টেক শেয়ারগুলি। সেই কারণে short-term hype-এর বদলে long-term strategy নিয়েই এগোনো বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
AI আগামী দিনে প্রযুক্তি এবং ব্যবসার জগৎ বদলে দিতে পারে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে শুধুমাত্র দ্রুত লাভের আশায় না ভেসে বাস্তব তথ্য বিচার করেই বিনিয়োগ করা উচিত বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। কারণ ইতিহাস বলছে, অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসের বাজারেই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি লুকিয়ে থাকে।



