বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে অস্থিরতা বাড়তেই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। ডিজেল ও এটিএফ (এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল) রপ্তানি শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ১৬ জুন থেকে কার্যকর হবে। তবে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির খবর, আপাতত পেট্রোল-ডিজেলের খুচরো দামে কোনও প্রভাব পড়ছে না।
অর্থ মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডিজেল রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতি লিটারে স্পেশাল অ্যাডিশনাল এক্সাইজ ডিউটি ১৩.৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪ টাকা করা হয়েছে। একইসঙ্গে এটিএফ রপ্তানির উপর শুল্ক ৯.৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২.৫০ টাকা প্রতি লিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে পেট্রোল রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন করে কোনও অতিরিক্ত কর আরোপ করা হয়নি। ফলে এই মুহূর্তে পেট্রোল রপ্তানির নীতিতে কোনও পরিবর্তন আসছে না।
সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে অনিশ্চয়তা জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়িয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানও পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। এর পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
এই পরিস্থিতিতে দেশের তেল শোধনকারী সংস্থাগুলি যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি লাভের আশায় অতিরিক্ত পরিমাণে জ্বালানি রপ্তানি না করে, সেদিকেই নজর দিয়েছে কেন্দ্র। রপ্তানি শুল্ক বাড়িয়ে দেশীয় বাজারে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ প্রথমবার ডিজেল ও এটিএফ রপ্তানির উপর উইন্ডফল ট্যাক্স চালু করেছিল কেন্দ্র। পরে ১৬ মে পেট্রোল রপ্তানিকেও সেই করের আওতায় আনা হয়। বর্তমান সিদ্ধান্ত সেই নীতিরই ধারাবাহিকতা বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলেও দেশের বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও মূল্যস্থিতি বজায় রাখতে কেন্দ্র যে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, ডিজেল ও এটিএফ রপ্তানি শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সেই বার্তাই আরও স্পষ্ট করল।



