দলে ভাঙনের আবহ, বিধায়কদের নিয়ে ফের রবিবার কালীঘাটে বৈঠক ডাকলেন মমতা

দলের অন্দরে বাড়ছে অস্বস্তি ও পদত্যাগের ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে কালীঘাটে বিধায়কদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকলেন মমতা।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বাড়তে থাকা অস্বস্তির মাঝেই ফের সক্রিয় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একের পর এক নেতা-নেত্রীর প্রকাশ্য মন্তব্য, পদত্যাগ এবং রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরে জল্পনার আবহে রবিবার কালীঘাটের বাড়িতে দলের বিধায়কদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন— এই বৈঠকে দলের জন্য কী বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী।

সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের অন্দরে একাধিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাপ বেড়েছে। বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ইতিমধ্যেই দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে জোর রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়-ও প্রকাশ্যে দলীয় অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন পুরসভায় কাউন্সিলরদের গণ-ইস্তফার ঘটনাও তৃণমূল নেতৃত্বের অস্বস্তি বাড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেই নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতিও শুরু করেছে দল। সূত্রের খবর, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে অন্তত ৫০টি কেন্দ্রে ভোট লুটের অভিযোগ তুলে আদালতে যাওয়ার ভাবনা রয়েছে তৃণমূলের। সেই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজও শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

তবে দলীয় সূত্রেই খবর, পরাজিত প্রার্থীদের একাংশ মামলা করতে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তাঁদের যুক্তি, রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে গিয়েছে এবং শুধুমাত্র মামলা করে পরিস্থিতি পাল্টানো কঠিন। এই অবস্থায় তাঁদের বোঝানোর দায়িত্ব নিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব।

পরাজয়ের পর থেকেই কালীঘাটে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়ক, পরাজিত প্রার্থী, মেয়র, পুরপ্রধান এবং কাউন্সিলরদের নিয়ে আলাদা আলাদা বৈঠকে তিনি সাংগঠনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন।

উল্লেখযোগ্যভাবে, বর্তমানে বিধানসভায় তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০। এর মধ্যেই বিভিন্ন প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী শিবিরের একাধিক বিধায়কের যোগদান রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করেছে। কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক থেকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন সংক্রান্ত বৈঠক— বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল বিধায়কদের উপস্থিতি নজর কেড়েছে।

এই আবহে রবিবারের বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দলের অন্দরের অসন্তোষ, সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ রণকৌশল— সব বিষয়েই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আসতে পারে বলে জল্পনা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর