নজরবন্দি ব্যুরোঃ “রিয়েল লাইফে গোখরো কামড়ালে এক ছোবলেই ছবি” প্রথমবার জনসভা থেকে মিঠুনকে বিঁধলেন মমতা। লাল থেকে ঘাস্ফুল ঘুরে এখন পদ্মফুলে বাংলার ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তী। তাঁর বিজেপিতে যোগদান নিয়ে এই ইস্তক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কিছু বলতে শোনা যায়নি। রাজ্যে চার দফা ভোটের পর পঞ্চম দফার আগে শেষ প্রচারে অবশেষে মুখ খুললেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ প্রস্তুত থাকতে হবে সবরকম ভাবে, করোনা মোকাবিলায় আজ জরুরি বৈঠক রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনের।


আগামীকাল হাবড়ায় নির্বাচন। তার আগে হাবড়ার প্রচারসভা থেকে এবার মিঠুনকে সরাসরি আক্রমন করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। মিঠুনেরই ‘জাত গোখরো’ প্রসঙ্গ টেনে আজ তিনি বলেন “সিনেমার গোখরো আর বাস্তবের গোখরো মধ্যে অনেক পার্থক্য। রিয়েল লাইফে গোখরো কামড়ালে এক ছোবলেই ছবি। ছেলেকে বাঁচাতে আজ মিথ্যে কথা বলছেন।” মোদীর বাংলাদেশ সফর, করোনা পরিস্থিতি থেকে কেন্দ্রীয় নীতি একের পর এক বিষয়ে বিজেপির সমালোচনা করে তিনি বলেন “গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ-সহ বিভিন্ন রাজ্যে হু হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। বাংলার ভোট করাতে ওই রাজ্য থেকে বহিরাগতদের রাজ্যে আনছে বিজেপি। অভিযোগ, তাঁরাই ছড়াচ্ছে করোনা। ভ্যাকসিনের অভাবের জন্যও কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেন মমতা। বলেন, রাজ্য টিকা কিনতে চাইলেও কেন্দ্র দিচ্ছে না। ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রাজ্যবাসীকে।”
প্রসঙ্গত বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিঠুন চক্রবর্তী। নাম করে কটাক্ষ না করলেও ইঙ্গিতে বুঝিয়েছিলেন মমতার আচরণে অসন্তুষ্ট তিনি। সেই কারণেই দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি, পরবর্তীতে দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। যার জবাব আজ ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে দিলেন মমতা। সভা থেকে মোদীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন ” বাংলাকে বাংলার মতো থাকতে দিন। বাংলায় কোভিড ছড়াবেন না নরেন্দ্র মোদীজি। আপনাকে বারবার বলছি।. আর অনেক আগেই চিঠি লিখেছিলাম, বিনা পয়সায় ইঞ্জেকশন, ওষুধ দেওয়ার অনুমতি দিন। তখন দেননি কেন? পলিটিক্স ছাড়া তো কিছুই বোঝেন না।’ অন্যদিকে মমতার অভিযোগকে আমল দিতে নারাজ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘উনি জানেন না, প্যান্ডেলের কাজ, ডেকোরেটার্সের কাজ বাংলার লোকেরাই করে। বাইরের কেউ নয়। আর ভোটের জন্য করোনা বাড়ছে বলে আমি মনে করি না। তাহলে দিল্লিতে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে কী করে?”
“রিয়েল লাইফে গোখরো কামড়ালে এক ছোবলেই ছবি” প্রথমবার জনসভা থেকে মিঠুনকে বিঁধলেন মমতা। ভোটের আগে শেষ প্রচারে বিজেপিকে আক্রমন শানিয়ে প্রচারে ঝর তুললেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে এও ফের মনে করিয়ে দিলেন ২৯৪ টি আসনে আসলে তিনিই মুখ তিনিই সব সিটের প্রার্থী।


সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



