‘আদ্যোপান্ত দুর্নীতিগ্রস্ত’, জৈন হাওয়ালা প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যপালকে আক্রমন মুখ্যমন্ত্রীর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ‘আদ্যোপান্ত দুর্নীতিগ্রস্ত’, জৈন হাওয়ালা প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যপালকে আক্রমন মুখ্যমন্ত্রীর। রাজ্যে আসার প্রথম দিন থেকেই সরকারের সঙ্গে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সম্পর্ক নরমে গরমে। তৃতীয়বারের জন্য মমতা সরকার ক্ষমতায় এলেও সেই সম্পর্কের কোন উন্নতি হয়নি। বরং ভোট কেন্দ্রিক হিংসা থেকে একের পর এক ইস্যুতে সরকারকে সরাসরি আক্রমন শানিয়েছেন রাজ্যপাল। অন্যদিকে শাসক দলের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে আক্রমন করা হয়েছে রাজ্যপালকে। এমন টানাপড়েনের মধ্যেই তিন দশকের পুরনো প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যপালের দিকে আক্রমন শানালেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুনঃ ফের উত্তপ্ত উপত্যকা, ড্রোন হামলার পর সস্ত্রীক স্পেশ্যাল পুলিশকে হত্যা জঙ্গিদের।

তাঁকে ‘আদ্যোপান্ত দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলেও আখ্যা দেন। তিন দশকের পুরনো জৈন হাওয়ালা-কাণ্ডে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের নাম রয়েছে, এই কথা শোনা গেল খোদ তাঁর মুখে। প্রসঙ্গত গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) দুর্নীতিগ্রস্ত বলে সোমবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ তুলেছেন ধনখড়। যার পাল্টা হিসেবে রাজ্যপালের দুর্নীতি প্রসঙ্গ টেনে নবান্নে বলেন “রাজ্যপাল এক জন আদ্যোপান্ত দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ। হাওড়ার জৈন হাওয়ালা-কাণ্ডের চার্জশিটেও ওঁর নাম ছিল। সেই সময়কার এক রিপোর্টার আমাকে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন। হাওড়া জৈন হাওয়ালা মামলায় রাজ্যপালের নামও ছিল। আদালতে গিয়ে নিজের নাম সরিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু এখনও একটি রিট পিটিশন পড়ে রয়েছে। তাতে ওঁর নাম রয়েছে।”

এরপরেই তিনি বলেন “উনি এক জন দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ। দুঃখের সঙ্গে বলতেই হচ্ছে, এক জন আদ্যোপান্ত দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ। কেন্দ্র এখনও ওঁকে রাজ্যপাল করে রেখেছে কেন জানি না। জৈন হাওয়ালা মামলায় ওঁর নাম রয়েছে। কেন্দ্র না জানলে, আমি জানাচ্ছি। চার্জশিট বার করে দেখুন নাম আছে কি না। প্রথমে আদালতকে ম্যানেজ করে নাম সরিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে ফের রিট পিটিশন জমা পড়ে। এখনও তার নিষ্পত্তি হয়নি। আদালতে পড়ে রয়েছে।” ১৯৯১ সালে কাশ্মীরি জঙ্গি আশফাক হুসেন লোনের গ্রেফতারিতে জৈন হাওয়ালা-কাণ্ড সামনে আসে। আশফাক হিজবুল মুজাহিদিনের সদস্য বলে তদন্তে উঠে আসে।

দিল্লিতে তাঁকে জেরা করে জানা যায়, হাওড়ার ব্যবসায়ী সুরেন্দ্রকুমার জৈন এবং তাঁর পরিবার মারফত হিজবুলের কাছে অর্থ সাহায্য যেত। আশফাকের বয়ানের উপর ভিত্তি করে সুরেন্দ্র, তাঁর দফতর এবং আত্মীয়দের বাড়িতে তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিবিআই)। সেই সময় তল্লাশিতে বিদেশি মুদ্রা, দু’টি ডায়েরি, একগুচ্ছ নোটবুক উদ্ধার হয়। তাতে বেশ কিছু প্রভাবশালী রাজনীতিক এবং আমলার নামের আদ্যাক্ষর পাওয়া যায়, যাঁদের কাছ থেকে সুরেন্দ্র মারফত হিজবুলের কাছে টাকা যায়। তা নিয়ে চার্জশিটও দায়ের করে সিবিআই। কিন্তু মাঝপথেই সেই তদন্ত থমকে যায়। ডায়েরিতে নাম থাকা ব্যক্তিদের পাশাপাশি জৈনদের বিরুদ্ধেও তদন্ত থেমে যায় মাঝপথে।

‘আদ্যোপান্ত দুর্নীতিগ্রস্ত’, জৈন হাওয়ালা প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যপালকে আক্রমন মুখ্যমন্ত্রীর। উল্টে ওই মামলায় তদন্তকারী সিবিআই অফিসারদেরই এক এক করে বদলি করা হয়। এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রসঙ্গ টেনে ফের রাজ্যপালকে আক্রমন রাজনীতিতে নয়া মাত্রা যোগ করল সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এই নিয়ে এখনও রাজ্যপালের কোন প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত