হুগলির আরামবাগের সরকারি পরিষেবা প্রদানের মঞ্চ থেকে ফের একবার বিরোধীদের আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তৃণমূলনেত্রীর সাফ কথা, সরকার ৫ লক্ষ চাকরি দিতে চায় কিন্তু তা কেবল হচ্ছে না বিজেপি-সিপিআইএম-কংগ্রেসের জন্য! কারণ, আদালতে কথায় কথায় মামলা করে চাকরি আটকে দিচ্ছে বিরোধীরা এমনই অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। মমতা বলেন, “রাজ্যে প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। আমি কথা দিয়ে কথা রাখতে জানি।”
আরও পড়ুন: সন্দেশখালিকাণ্ডের অভিনব প্রতিবাদ, বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড শুভেন্দু সহ ৬ বিজেপি বিধায়ক
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, “পুলিশের ৬০ হাজার নিয়োগ করবে সরকার। শিক্ষক নিয়োগও চূড়ান্ত। কিন্তু, আদালতে মামলা করলে কীভাবে চাকরি হবে! আমরা কী করিনি? লক্ষ্মীর ভান্ডারে লাখ লাখ মহিলা উপকৃত হচ্ছেন। মেয়েদের কন্যাশ্রী দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। বিজেপি-সিপিআইএম-কংগ্রেস চায় না বেকার ছেলেমেয়েরা চাকরি পাক।”

একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিভিন্ন জেলায় ১৬ লক্ষ মানুষকে সরকারি পরিষেবা দিয়েছিল। হুগলি জেলার জন্য ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হল। ৬১০ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা রাজ্য সড়ক নির্মাণের জন্য বয়াদ্দ করা হল। দামোদর, মুন্ডেশ্বরী ও সেচ খালের ওপর ৩টি বড় সেতু ও ১৫টি ছোট সেতু নির্মাণ হবে। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মিলনস্থল আরামবাগ। এই সড়ক তৈরি হলে বহু মানুষ উপকৃত হবে। বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি।”

কেন চাকরি দিতে পারছে না রাজ্য সরকার? আরামবাগ থেকে স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী
মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হতেই জেলা সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তৃণমূলনেত্রীর জেলাসফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। কারণ, হুগলি শিল্পাঞ্চল। সেখানে শিল্প প্রসঙ্গে মমতা কী বার্তা দেন তা নিয়ে চর্চা জারি আছে। আরামবাগকে পৃথক জেলা করার দাবিও আছে সে অঞ্চলের বাসিন্দাদের।

এদিন আরামবাগের সভায় মমতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঘাটালের সাংসদ দেব। অভিনেতা ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান তৈরির আর্জি জানান মুখ্যমন্ত্রীকে। মমতাও বলেন, ভাই আবদার করলে তিনি তা ফেলতে পারেন না! বিতর্কের মধ্যেই আবারও দেবকে পাশে টেনে মমতা বুঝিয়ে দিলেন, তাঁকে উপেক্ষা করা ততটাও সহজ নয়!









